ঢাকার আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। ১৮ অক্টোবর রোববার বিকেলে আশুলিয়া থানাধীন আউকপাড়া আদর্শগ্রামের একটি অটো গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকার সৈয়দ আলভী (৩০), উত্তর আউকপাড়া এলাকার মো. মামুন (৩৪) এবং পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা এলাকার জহিরুল (২৭)।
ঢাকা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল আশুলিয়া থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল।
১৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে, আশুলিয়া থানাধীন আউকপাড়া আদর্শগ্রামের জাহানারা বেগমের মালিকানাধীন একটি অটো গ্যারেজের ভেতরে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি অবস্থান করছেন।
সংবাদটির সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরে ডিবি-উত্তরের ওসি সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের দলটি ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গ্যারেজের ভেতর থেকে সৈয়দ আলভী, মোঃ মামুন ও জহিরুলকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের হেফাজতে থাকা একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলিভর্তি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্রের বিষয়ে পুলিশ জানায়, পিস্তলটি লোহার তৈরি এবং এতে কাঠের বাট রয়েছে। কাঠের বাটসহ অস্ত্রটির কোনাকুনি দৈর্ঘ্য প্রায় সাত ইঞ্চি। পিস্তলটির গায়ে ইংরেজিতে ‘TTA’ ও ‘ALY’ লেখা খোদাই করা রয়েছে বলে উদ্ধারসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অস্ত্রটির সঙ্গে এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে সৈয়দ আলভীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মোঃ মামুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি এবং অন্যান্য ধারায় আরও তিনটিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে জহিরুলের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি ও চুরির দুটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।