শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন কাঁচিকাটা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুলারচর বাজারের পশ্চিম পাশে এবং ইল্লার বাজারের উত্তর পাশে নদীর পাড়ে প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধে সরকারি অভিযান চললেও ওই এলাকায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মা ইলিশের বেচাকেনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টা থেকে সকাল পর্যন্ত এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব এলাকায় মাছ কেনাবেচা হয়। এতে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের চলমান অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ী জেলেদের আগাম টাকা বা দাদন দিয়ে মাছ ধরতে উৎসাহিত করেন। দাদনের টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত অনেক জেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে বাধ্য হন। ফলে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে চাইলেও আর্থিক দায়বদ্ধতার কারণে অনেকে নদীতে নামতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগে কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী ও আড়তদারের নাম উঠে এসেছে। তাঁরা হলেন—আমানউল্লাহ বেপারী, আবুল কালাম, শফি দেওয়ান, আলাউদ্দিন হাওলাদার, ইব্রাহিম বেপারীসহ আরও কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে কারও রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে পূর্ববর্তী ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে আমানউল্লাহ বেপারীর বক্তব্য জানতে গিয়ে তাঁর উদ্ধৃতি হিসেবে পাওয়া যায়, “৯ বছরে ৫০ লাখ টাকা নদীতে দাদন দিয়েছি। ১৭ বছরেও আমরা খেতে পারিনি, এখনো কি পারব না?” তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও অর্থ আরও স্পষ্ট
এদিকে, ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সখিপুর থানার আওতাধীন এলাকায় মা ইলিশ রক্ষায় চারটি দল কাজ করছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার পেছনে দাদনদাতা, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকা থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে নদীর পাড়ের বাজারগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধভাবে মা ইলিশ বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মা ইলিশ সংরক্ষণ দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাছের উৎপাদন বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা, পরিবহন ও বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।