শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

বাংলাদেশে ১১ প্রজাতির মাছরাঙা, আবাসস্থল সংকটে অস্তিত্ব

মো জিহাদ সরকার
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ am
৫৬
বাংলাদেশে ১১ প্রজাতির মাছরাঙা, আবাসস্থল সংকটে অস্তিত্ব
বর্ণিল পালক আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত মাছরাঙা। বাংলাদেশের নদী, পুকুর, জলাভূমি ও বনাঞ্চলে দেখা মেলে প্রায় ১১ প্রজাতির মাছরাঙা পাখির।

বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জ, নদী, পুকুর, উপকূল ও বনাঞ্চলে দেখা মেলে প্রায় ১১ প্রজাতির মাছরাঙার। বর্ণিল পালক, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি ও মাছ শিকারের অনন্য কৌশলের জন্য পরিচিত এ পাখি দেশের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে মাছরাঙার আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত জলাশয় ও গাছপালায় ভরা প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন এদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

প্রকৃতিবিষয়ক লেখক ও পরিবেশবিদ সৌরভ মাহমুদ তাঁর অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছরাঙার বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরেছেন। জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত এই পরিবেশবিদের বর্ণনায় উঠে এসেছে বরিশালের গ্রামীণ জনপদ থেকে সুন্দরবন ও পার্বত্য অঞ্চলে মাছরাঙার বিচিত্র উপস্থিতি।

শৈশবে বরিশালের গ্রামের বাড়িতে পাতি মাছরাঙা ও ধলাবুক মাছরাঙা বেশি দেখতেন সৌরভ মাহমুদ। বাড়ির পুকুরের খাড়া পাড়ে গর্ত করে প্রতিবছর বাসা বানাত পাখি দুটি। পুকুরে পুঁতে রাখা বা পানিতে পড়ে থাকা গাছের ডালে বসে মাছের সন্ধান করত তারা। চেলা ও পুঁটি মাছ ছিল তাদের প্রধান খাবার। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি পালা করে ডিমে তা দিত।

তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে মাছরাঙা শিকার করা হতো না বলে পাখিগুলোর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক ভালো। প্রতিটি বাড়ির পুকুরে দুই থেকে চার জোড়া মাছরাঙা দেখা যেত। পাখিগুলো নিজেদের বিচরণ এলাকা নির্ধারণ করে চলত। দুই প্রজাতির মাছরাঙার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংঘাতও তাঁর চোখে পড়েনি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রজাতিভেদে মাছরাঙার বিস্তৃতিও আলাদা। বরিশাল শহর ও আশপাশের গ্রামে পাতি মাছরাঙা, ধলাবুক মাছরাঙা, নীলকান মাছরাঙা ও মেঘহও মাছরাঙা দেখা যায়। সুন্দরবনের খালগুলো খয়রা, কালোটুপি ও লাল মাছরাঙার আবাস হিসেবে পরিচিত। ভাটার সময় এসব পাখিকে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করতে দেখা যায়।

কুষ্টিয়ার গড়াই নদের তীরবর্তী এলাকায় দেখা মেলে পাকড়া মাছরাঙার। অন্যদিকে, গ্রীষ্মকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনের ছড়ার আশপাশে বসবাস করে উদয়ী বামনরাঙা। ধলাঘাড় ও মেঘহও মাছরাঙার বিচরণ মূলত উপকূলীয় এলাকায় বেশি।

মাছরাঙা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, জলজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। মাছ ও অন্যান্য ছোট প্রাণী শিকার করে এরা খাদ্যশৃঙ্খলের অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে মাছরাঙার উপস্থিতি ও আবাসস্থলের অবস্থা প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পেতে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশের মতো ছোট ভূখণ্ডে প্রায় ১১ প্রজাতির মাছরাঙার উপস্থিতি দেশের পাখিবৈচিত্র্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। সৌরভ মাহমুদের বর্ণনায়, ইউরোপ মহাদেশে মাছরাঙার মাত্র তিন প্রজাতির বিচরণ রয়েছে, আর জার্মানিতে তিনি মূলত পাতি মাছরাঙা দেখেন।

মাছরাঙার এই বৈচিত্র্য ধরে রাখতে জলাশয় সংরক্ষণ, পুকুরের প্রাকৃতিক পাড় রক্ষা, গাছপালা ও বনাঞ্চল টিকিয়ে রাখা এবং পাখি শিকার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। মাছরাঙার নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!