রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

উখিয়ায় আটক সার নিলামে ডিলারদের কব্জায়: বঞ্চিত কৃষকদের ক্ষোভ, বাকি ১০ টন সরাসরি কৃষকদের বরাদ্দের দাবি

মো গিয়াস উদ্দীন
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩০ pm
৫৮
উখিয়ায় আটক সার নিলামে ডিলারদের কব্জায়: বঞ্চিত কৃষকদের ক্ষোভ, বাকি ১০ টন সরাসরি কৃষকদের বরাদ্দের দাবি

কক্সবাজারের উখিয়ায় চোরাচালানের সময় আটককৃত ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ফসফরাস সারের নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে সাধারণ কৃষকদের মাঝে এই সার বিক্রি করার কথা থাকলেও, তা চলে গেছে সিন্ডিকেটের তিন ডিলারের হাতে। ফলে নিলামের খবর শুনে কৃষি অফিসে ভিড় করা স্থানীয় প্রকৃত কৃষকরা সার না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, জব্দকৃত ৫৫ বস্তা সার উখিয়া কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে উখিয়া থানার হলরুমে আজ সকাল ১০ ঘটিগার সময় নিলামে তোলা হয়।

এই নিলামে স্থানীয় প্রকৃত কৃষক ও বৈধ সার ডিলারদের উন্মুক্তভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকার কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে নিলাম প্রক্রিয়া শেষ করায় সাধারণ কৃষকরা সারের সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, কৃষকদের বঞ্চিত করে সারের এই চালানটি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আবারো সেই পুরোনো সিন্ডিকেটের ডিলারদের হাতেই তুলে দেওয়া হলো। এর ফলে উখিয়ার কৃষি ও স্থানীয় কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামানিষ সরকার জানান, নিলাম প্রক্রিয়ায় ডিলারদের বাইরে সাধারণ মানুষকেও অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ কৃষকদের কেউ এতে অংশ নেননি। ফলে উপস্থিত ডিলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতার ভিত্তিতে তিন ডিলারকে এই ৫৫ বস্তা সার দেওয়া হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, থানায় এখনো ১০ টনেরও বেশি সার জব্দ অবস্থায় রয়েছে। এই সারগুলোর নিলাম উখিয়া কৃষি অফিস থেকে হবে না, বরং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও জানান, উখিয়ার কৃষকদের বর্তমান অবস্থা এবং তাদের ক্ষোভের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরবেন, যাতে পরবর্তী ১০ টন সারের নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা যায়।

এদিকে সাধারণ কৃষকরা জোর দাবি জানিয়েছেন, থানায় জব্দ থাকা বাকি ১০ টনেরও বেশি সার যেন কোনোভাবেই আর ডিলারদের হাতে নিলাম করা না হয়। এই সারগুলো সিন্ডিকেটের হাতে না দিয়ে সরাসরি সাধারণ কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি বা বিতরণ করলে প্রকৃত কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!