ঢাকার সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পৃথক স্থান থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইনসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর শাখা। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজনই পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ও রাতে সাভার মডেল থানার আওতাধীন পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানটি বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাভার থানাধীন সোবহানবাগ এলাকায় পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এসআই শেখ মাসুদ আল মামুনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল মো. সিরাজুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সিরাজুল ইসলাম সাভারের সামাইর এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদ এর ছেলে।
অন্যদিকে, একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাভার মডেল থানাধীন বক্তারপুর (বেদেপাড়া) এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে এসআই মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল মোঃ হারুন মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, হারুন মিয়ার কাছ থেকে ৫০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের মোট ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম। এর আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হারুন মিয়া সাভারের ঘোড়াদিয়া এলাকার মৃত আব্দুল রফিক মিয়ার ছেলে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে। অপর গ্রেপ্তার হারুন মিয়ার বিরুদ্ধেও একটি মাদক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।