ঢাকার কোতয়ালী থানাধীন তাতীবাজার মোড় এলাকা থেকে আন্তঃজেলা কুখ্যাত ডাকাত হিসেবে পরিচিত কাজী আকবরকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর শাখা। পুলিশের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, মাদক ও অস্ত্র আইনের মামলাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে তাতীবাজার মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্ব দেন। অভিযানে এসআই (নিঃ) মোঃ মনির হোসেনসহ ডিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
গ্রেফতার কাজী আকবর খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার সেনহাটি এলাকার ফকির লাইনের বাড়ির মোহাম্মদ কাজী রফিকের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর কাজী আকবরকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
এদিকে পুলিশের পিসিপিআর (পুলিশ ক্রাইম ডাটাবেজ) পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ১০টি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ডাকাতি, হত্যা, মাদক ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা ডিবি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কাজী আকবরের বিরুদ্ধে খুলনার দিঘলিয়া থানায় দুটি সাজা পরোয়ানাসহ মোট পাঁচটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এসব পরোয়ানার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিশেষ অভিযান চলাকালে তার অবস্থান শনাক্তের পর তাতীবাজার মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিষয় যাচাই-বাছাই করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) জানিয়েছে, গ্রেফতার কাজী আকবরকে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তঃজেলা অপরাধী, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।