গোলাম কিবরিয়া,
খুলনা:
খুলনার অন্যতম ব্যস্ততম সংযোগস্থল গল্লামারি। খুলনা জেলা শহরের সঙ্গে বটিয়াঘাটা উপজেলা ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দ, ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।সরেজমিনে দেখা গেছে, গল্লামারি থেকে বটিয়াঘাটার দিকে যাওয়ার এই প্রধান সড়কটি কয়েক বছর ধরেই চলাচলের অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বড় বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের জন্য এই সড়ক এখন এক আতঙ্কের নাম।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ খুলনা শহর ও বটিয়াঘাটায় যাতায়াত করেন।
এর মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবীরা রয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো টেকসই সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ এখানে নিত্যসঙ্গী।
ভোগান্তির তীব্রতা প্রকাশ করে একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভের সাথে বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যেন এক আজন্ম পাপের মতো। প্রতিদিনই ভয় নিয়ে চলতে হয়—কখন উল্টে গিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে, বলা যায় না।”ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় সড়কটি পরিদর্শন করলেও স্থায়ী কোনো সমাধান আজ পর্যন্ত হয়নি। মাঝে মাঝে নামমাত্র কিছু ইটের খোয়া দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হলেও কয়েক দিনের বৃষ্টি ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে তা আবার আগের চেহারায় ফিরে যায়। ফলে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
গল্লামারি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হওয়ায় এখানকার সড়কব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই শুধু আশ্বাসের বাণী না শুনে, দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এখন সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—আর কতদিন পোহাতে হবে এই নরকযন্ত্রণা? কবে অবসান হবে গল্লামারি-বটিয়াঘাটা সড়কের এই বেহাল দশার? আর কবেই বা মিলবে এই ভোগান্তি থেকে চিরমুক্তি?