ফরিদপুর সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং সেই টাকা ভাগাভাগি করা হয় বলে তিনি শুনেছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
সাবরেজিস্ট্রি অফিস প্রসঙ্গে নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, “আমি শুনেছি, ওখানে না কি টাকা ভাগাভাগি হয়, এটা খুবই দুঃখের বিষয়।”
তিনি বলেন, “জমি রেজিস্ট্রি হয় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। গতকাল শুনলাম, ওখানে যারা চাকরি করে, তারা প্রান্তিক পর্যায়ের গরিব-দুঃখী মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়ে থাকে। প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার জমি রেজিস্ট্রি হয়। যেখানে ২০০ টাকা নেওয়ার কথা, সেখানে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হয় এবং ওখানে এই টাকা নাকি ভাগাভাগি হয়।”
ফরিদপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দুর্নীতি হচ্ছে দাবি করে সংসদ সদস্য বলেন, “ফরিদপুরের প্রতিটা উন্নয়নে দেখি দুর্নীতি। আমার খুব কষ্ট লাগে। প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি সেক্টরে আমি দেখছি দুর্নীতি। আসলে এগুলো আমি সহ্য করতে পারি না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যত দিন আছি, আমার কাজ অন্যায়কে ন্যায়ের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা। আমি একটি সুন্দর ফরিদপুর চাই। এখানে কেউ চাঁদাবাজি করবে না, সন্ত্রাস থাকবে না।”
সাংবাদিকদের নির্ভয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, “আমিও যদি কোনো অন্যায় করি, সেটাও তুলে ধরবেন, যাতে আমিও শোধরাতে পারি।”
তিনি বলেন, “আমার পরিবার যেটা রেখেছে সেই নাম, সম্মান, ভালোবাসায় কালিমা লেপন করার সাহস আমার নাই।”
এ সময় ফরিদপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের ভোট পাওয়ার বিষয়েও মন্তব্য করেন তিনি। ওই দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের পরিবারের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য।
মতবিনিময় সভায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল ইসলাম পিয়ালের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান, প্রেসক্লাবের সদস্য ফারিয়ান ইউসুফ আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।