চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাছবাহী মিনি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দেবরাজ বণিক (২২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বাবা আষিশ বণিক (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত দেবরাজ জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আষিশ বণিক বারইয়ারহাট পৌরসভার কনা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ-চৌধুরীহাট হাইওয়ে থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করে ছেলে দেবরাজ বণিককে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন আষিশ বণিক। তারা জোরারগঞ্জ-চৌধুরীহাট হাইওয়ে থানার সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মাছবাহী মিনি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।
এতে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় দেবরাজ বণিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আষিশ বণিককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দেওয়ানপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একসঙ্গে দোকান বন্ধ করে বাড়ির পথে বের হলেও পিতা-পুত্রের আর একসঙ্গে বাড়ি ফেরা হলো না—মর্মান্তিক এ ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এ অংশে মাছবাহী পিকআপ, মিনি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অতিরিক্ত গতির পাশাপাশি তীব্র হেডলাইট ব্যবহার করায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের চালকদের স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, একই এলাকায় কিছুদিন আগেও বেপরোয়া পিকআপের ধাক্কায় মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ দুজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মহাসড়কের এই অংশে গত কিছুদিনে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও তারা দাবি করেন।
তাদের অভিযোগ, মাছবাহী যানবাহনের চালকদের অনেকেই অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মানেন না। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।
এ অবস্থায় মহাসড়কে বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, চালকদের গতিসীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং তীব্র হেডলাইট ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ী যানবাহনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।