বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

ধউর-আশুলিয়ায় খুলল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

এইচ এম সাগর সাভার উপজেলা প্রতিনিধি
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ pm
১৭৮
ধউর-আশুলিয়ায় খুলল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত অংশের দুটি সার্ভিস সেতু। দুই লেনবিশিষ্ট প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার। তুরাগ নদের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি আশুলিয়া ও আশপাশের এলাকার যানজট কমাতে এ অংশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বুধবার সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে সার্ভিস সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পরপরই যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু দুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দীর্ঘতম উড়াল সড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলো। বর্তমান সরকারের সময়ে গত কয়েক মাসে প্রকল্পটির কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এ অংশ চালু হওয়ায় আশুলিয়া, সাভার, ধউর, বাইপাইলসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে প্রতিদিন শিল্পাঞ্চল ও রাজধানীর মধ্যে চলাচলকারী বিপুলসংখ্যক যানবাহনের জন্য এ যোগাযোগ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। তাঁরা প্রকল্পের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং দ্রুত পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফও বক্তব্য দেন। এছাড়া সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তুরাগ নদের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক ও উন্মুক্ত রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কের একটি অংশ রাখা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে সার্ভিস লেন ব্যবহার করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে এ অংশে টোল ছাড়াই সার্ভিস লেন ব্যবহার করে তুরাগ নদ পার হওয়ার সুযোগ থাকবে।

তুরাগ নদের পানি প্রবাহ যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকটি বিবেচনায় নিয়েই সেতু নির্মাণ ও সড়ক যোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস সেতু চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের যানজট, ধীরগতির যান চলাচল ও সড়ক ভোগান্তি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পের পুরো অংশ চালু হলে রাজধানী থেকে আশুলিয়া হয়ে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক যান চলাচলেও গতি বাড়তে পারে।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়।

একনেকে অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ সময় ধীরগতিতে চলায় এ অঞ্চলের মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনের পর নির্মাণ ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।

সংশোধিত প্রকল্পে বিভিন্ন নতুন কাজ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপন।

এছাড়া বাইপাইলে একটি দৃষ্টিনন্দন তৃতীয় তলা ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব অবকাঠামো যুক্ত হলে ঢাকা-আশুলিয়া করিডোরের যান চলাচল আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!