মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

সালথায় পেঁয়াজ চাষিদের নীরব কান্না, বাজারে দাম নেই, ঘরেই পচছে পেঁয়াজ।

মামুন মিঞা
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ pm
১১
সালথায় পেঁয়াজ চাষিদের নীরব কান্না, বাজারে দাম নেই, ঘরেই পচছে পেঁয়াজ।

পাট ও পেঁয়াজের রাজধানীখ্যাত ফরিদপুরের সালথা উপজেলা। এ উপজেলার কৃষকদের বড় একটি অংশ পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। মৌসুমে উপজেলার অধিকাংশ আবাদি জমিতেই পেঁয়াজের আবাদ হয়। এবার ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। ঘরে ও মাচায় সংরক্ষণ করা পেঁয়াজের বড় একটি অংশ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা মণ দরে। ফলে প্রতিমণ পেঁয়াজে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

কৃষকরা জানান, সাধারণত মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে অনেকেই মাচায় বা ঘরে সংরক্ষণ করে রাখেন। পরে দাম বাড়লে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ ও লাভের টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে গিয়ে মাচায় থাকা পেঁয়াজের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পচে যাচ্ছে বলে দাবি তাদের। কোনো কোনো কৃষকের পুরো মাচার পেঁয়াজই নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সালথার আটটি ইউনিয়নে মোট কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। উপজেলায় মোট আবাদি জমি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রায় ২০০ হেক্টর এবং বীজ থেকে উৎপাদিত পেঁয়াজ প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। মৌসুমে উপজেলার ৩০ হাজারের বেশি কৃষক পেঁয়াজ চাষ করেছেন বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর ও বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো কৃষক ন্যায্য দাম না পেয়ে পেঁয়াজ পানিতে ফেলে দিচ্ছেন বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম কম। এর মধ্যে সংরক্ষণাগারের অভাবে মজুদ করা পেঁয়াজও পচে নষ্ট হচ্ছে। তাই পেঁয়াজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সালথা সদর বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. মাসুম সরদার বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি থাকলেও মোকামে চাহিদা কম। এ কারণে বাজার কিছুটা নিম্নমুখী। বর্তমানে পেঁয়াজ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিকন বা ছোট পেঁয়াজের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। আগামী মাসের প্রথম দিকে দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি বলেন, চলতি বছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৮০০ কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে পেঁয়াজের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। পেঁয়াজের বর্তমান বাজারদর নিয়ে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি সালথায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার স্থাপনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ভালো ফলন পেয়েও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় সালথার কৃষকদের মধ্যে এখন হতাশা বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!