ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু রোগী ও তাদের অভিভাবকরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য যেতে হচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা সদর কিংবা রংপুরে।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (পেডিয়াট্রিক্স) বা শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন অভিভাবকরা।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে জরুরি রোগী নিয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে গিয়ে বাড়ছে ঝুঁকি।
শিশুর অভিভাবক সাজ্জাদ বলেন, অসুস্থ শিশুরা তাদের সমস্যার কথা ঠিকভাবে বলতে পারে না। তাই শিশুদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক সময় বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ থাকলে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা কম খরচে সহজেই চিকিৎসা সেবা পেত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নিম্নআয়ের পরিবারগুলো বেশি সমস্যায় পড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম বলেন, “শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা হলে শিশুদের চিকিৎসা সেবা আরও উন্নত হবে।”
সচেতন মহলের দাবি, শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা হোক। এতে শিশু রোগী ও তাদের অভিভাবকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।