রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

উখিয়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের বাল্যবিবাহ বিরোধী সমাবেশ: শুধুই কি আনুষ্ঠানিকতা? বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে শাহজাহান চৌধুরী এমপি

মো গিয়াস উদ্দীন
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৫ pm
৫৮
উখিয়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের বাল্যবিবাহ বিরোধী সমাবেশ: শুধুই কি আনুষ্ঠানিকতা? বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে শাহজাহান চৌধুরী এমপি
বক্তব্য রাখছেন শাহজাহান চৌধুরী এমপি। কক্সবাজার ৪ আসন

উখিয়া উপজেলা প্রাঙ্গণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এনজিও সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড ভিশন'-এর উদ্যোগে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক সুধী সমাবেশ। তবে অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ার দাবি করা হলেও, এর ভেতরে রয়ে গেছে বহু অনুদ্ঘাটিত প্রশ্ন এবং স্থানীয়দের চরম ক্ষোভ।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য জনাব শাহজাহান চৌধুরী অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "শুধু বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; কেন একজন পিতা তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে বিয়ে দিচ্ছেন, সেই মূল কারণ বা উৎসে মনোযোগ দিতে হবে।"

তিনি উখিয়ার দরগাহ বিল এলাকার একটি সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে জানান যে, কলেজপড়ুয়া মেয়েরা রাস্তাঘাটে বখাটে কিশোরদের দ্বারা নিয়মিত ইভটিজিং ও হেনস্তার শিকার হচ্ছে।

প্রশাসনকে জানানোর পরও যখন একজন পিতা তার মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন না,তখনই বাধ্য হয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে কম বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন।

তিনি উখিয়ার সাবেক জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, এনজিওদের ডাকে এসে শুধু সুন্দর সুন্দর কথা বলে গেলেই হবে না, তরুণ প্রজন্মের এই নিরাপত্তার অভাবের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব পান্না আক্তার দাবি করেন যে, উখিয়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে।

কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন! স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ—মাঠপর্যায়ে এই ধরনের কোনো কমিটির দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো ভূমিকা কখনোই দেখা যায় না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে উখিয়ার ভৌগোলিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে। উখিয়া উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করার যে দাবি তোলা হচ্ছে, তা কি শুধু স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য? উখিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যেখানে প্রতি ৯ মাস পর পর বিপুল সংখ্যক শিশুর জন্ম হচ্ছে এবং সেখানে বাল্যবিবাহের হার আশঙ্কাজনক, সেখানে কি ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই কার্যক্রম আদৌ চলমান আছে? এছাড়া কিছু অনলাইন মিডিয়াই প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর কিশোরীরা পালিয়ে বিয়ে করে ফেসবুকে তারা তারা জানান তারা স্বনিচ্ছাই এসেছে, পিতা-মাতার বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করে সেগুলো স্থানীয় কিছু গণমাধ্যম অনলাইন পোর্টালে ঢালাউ করে প্রকাশিত হয় এই ব্যাপারে প্রশাসন ও এনজিদের কোন ধরনের কোন প্রশ্ন করার দেওয়া হয়নি।

নাকি এই বিশাল সংকটকে আড়াল করে রাখা হচ্ছে?

দুর্ভাগ্যবশত, এই সুধী সমাবেশে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব জ্বলন্ত ও যৌক্তিক প্রশ্ন করার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। পুরো অনুষ্ঠানটি দেখে মনে হয়েছে, এটি কেবল কিছু নির্দিষ্ট মানুষ এবং কিশোর-কিশোরীদের 'ম্যানেজ' করে কাগজে-কলমে একটি সফল প্রোগ্রাম দেখানোর লোক দেখানো আয়োজন মাত্র। এনজিওদের এই ধরনের একপেশে ও পকেট প্রোগ্রামের মাধ্যমে উখিয়াকে সত্যিকার অর্থে বাল্যবিবাহ মুক্ত করা কতটা সম্ভব, তা এখন বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!