রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

ভালো ভিসার আশ্বাসে ৫ লাখ টাকা, সৌদিতে গিয়ে আকামা-কাজ না পেয়ে বিপাকে তরুণ

জেলা প্রতিনিধি
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ pm
২৩
ভালো ভিসার আশ্বাসে ৫ লাখ টাকা, সৌদিতে গিয়ে আকামা-কাজ না পেয়ে বিপাকে তরুণ

প্রতিবেদক: নাঈম হাসান। 

সৌদি আরবে ভালো ভিসা, আকামা ও কাজ দেওয়ার কথা বলে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ময়মনসিংহের পাগলা থানার সাধুয়া গ্রামের মোছাঃ মিনারা খাতুন। অভিযোগে তিনি তার ছেলে মো. আকরাম খানকে সৌদি আরবে পাঠানোর পর প্রতারণার শিকার হওয়ার দাবি করেছেন।

অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে ১ নম্বরে মো. এনায়েত উল্লাহ (৩৫), পিতা—তৈয়ব শেখ, সাং—কাওরাইদ; ২ নম্বরে দেলোয়ার হোসেন (৪০), পিতা—অজ্ঞাত, সাং—ছালা বাজার; ৩ নম্বরে হালিমা (৩০), স্বামী—দেলোয়ার হোসেন, সাং—ছালা বাজার; ৪ নম্বরে মোছাঃ তানজিলা (২৫), পিতা—শাহ আলম এবং ৫ নম্বরে বেবি আছমা (৫৫), স্বামী—তৈয়ব, উভয়ের ঠিকানা কাওরাইদ, থানা—শ্রীপুর, জেলা—গাজীপুর উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোছাঃ মিনারা খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. এনায়েত উল্লাহ সৌদি আরবে প্রবাসী এবং তার দু-সম্পর্কের নাতি। তিনি মিনারা খাতুনকে তার ছেলে মো. আকরাম খানকে ভালো ভিসায় সৌদি আরব নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে তিনি অভিযুক্ত ৩ ও ৪ নম্বর ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে এনায়েত উল্লাহর কথায় রাজি হয়ে তিনি ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, টাকা নেওয়ার পর এনায়েত উল্লাহ তার ছেলে আকরাম খানকে সৌদি আরবে নিয়ে যান এবং সেখানে ২ নম্বর অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনের হাতে তুলে দেন। কিন্তু এরপর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ভালো ভিসা দেওয়া হয়নি এবং আকামাও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মিনারা খাতুন। তার ছেলে বর্তমানে সৌদি আরবে চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।

মিনারা খাতুনের অভিযোগ, ১ নম্বর অভিযুক্ত তার ছেলেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো কাজও দিচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে ৩ ও ৪ নম্বর অভিযুক্তকে জানালে তারা তার সঙ্গে হুমকিমূলক আচরণ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সৌদি আরবে তার ছেলে বর্তমানে কাগজপত্রের বৈধতা না থাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন এবং আকামা দেওয়ার জন্য বারবার বললেও অভিযুক্তরা কোনো কর্ণপাত করছেন না।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মিনারা খাতুন অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলের আকামা ও কাজের বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় ৩ ও ৪ নম্বর অভিযুক্ত তার সঙ্গে হুমকিমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে নেওয়া ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন। একই সঙ্গে ২ নম্বর অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন, ১ নম্বর অভিযুক্ত এনায়েত উল্লাহর মাধ্যমে সৌদি আরবে লোক নিয়ে গিয়ে তাদের আকামা না দিয়ে আটকে রাখেন এবং তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

মিনারা খাতুন আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা ও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করার কারণে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সাক্ষী ও প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ মিনারা খাতুন ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার দেওয়া ৫ লাখ টাকা ও তার ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগে উল্লিখিত পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!