মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি :
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় একটি মুদি দোকান ও পাশে রাখা পাটের স্তূপে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকানটির মালিক মাহাবুর শেখ। জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দোকানে আগুন দিয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ।
এ ঘটনায় গত ২১ আগস্ট টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাহাবুর শেখ (৪৫)। তিনি উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের ভূলিহাটা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. হোসেন শেখ।
শুক্রবার (২১ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি দোকান ঘর আগুনে পুড়ে গেছে। পাটের স্তূপেও ধোঁয়া জ্বলছে। পুড়ে যাওয়া দোকানের অবশিষ্ট কাঠ, টিন ও পাটের অংশ পরে আছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভূলিহাটা গ্রামে বসতবাড়ি-সংলগ্ন পাকা সড়কের পশ্চিম পাশে মাহাবুর শেখের একটি মুদি দোকান রয়েছে। দোকানটি তাঁর বাবা পরিচালনা করে আসছিলেন। অসুস্থতার কারণে গত ১৬ আগস্ট থেকে দোকানটি বন্ধ ছিল।
অভিযোগে মাহাবুর শেখ বলেন, ২১ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড় টার দিকে তিনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় প্রতিবেশীদের মাধ্যমে দোকানে আগুন লাগার খবর পান। পরে তিনি দোকানের সামনে গিয়ে দেখেন, দোকানের ভেতর ও চারপাশে এবং দোকানের উত্তর পাশে রাখা তাঁর ছোট বোনের শ্বশুর তেতা মিয়া শেখের পাটের স্তূপে আগুন জ্বলছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মাহাবুরের দাবি, আগুনে দোকানের মালামাল পুড়ে আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা এবং পাট পুড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আগে থেকেই কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ ও বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ বিরোধের জেরে তাঁর দোকান ও পাটের স্তূপে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
এ ঘটনায় অভিযোগে মৃত জয়নাল ব্যাপারীর ছেলে জামাল ব্যাপারী (৬০), মৃত নুর ইসলাম শেখের ছেলে ইয়ার আলী (৫০), সিরাজ শেখ (৫২) এবং চুন্নু মিয়া শেখ (৪৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী বলেন, ২১ আগস্ট রাত ১২টার পর থেকে রাত আনুমানিক দেড় টার আগের কোনো একসময় তাঁর বসতবাড়ি-সংলগ্ন পাকা সড়কের পশ্চিম পাশে থাকা মুদি দোকান ও পাশের পাটের স্তূপে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মাহাবুর শেখ।
টঙ্গীবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামীম আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।