শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করেছে: আমির খসরু

এইচ এম সাগর সাভার উপজেলা প্রতিনিধি
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ pm
১৫১
শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করেছে: আমির খসরু

শিক্ষা খাতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

শুক্রবার সকালে সাভারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে যে অবস্থানে পৌঁছেছে, সেখান থেকে আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্য নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। শুধু প্রচলিত ধারার শিক্ষা নয়, শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা তাদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও দেশের বাইরে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। উচ্চশিক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী যেন সহজেই তার অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ পায়, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একটি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত উন্নয়নই ঘটায় না; এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং জাতীয় অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

ইউজিসি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (HET) প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী এ নীতিনির্ধারণী সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ জন উপাচার্য ছাড়াও নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং ইউজিসি ও HET প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিস্তার, শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা, শিক্ষার গুণগত মান, জবাবদিহি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। এ বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকরা বলেন, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক শ্রমবাজারে টিকে থাকতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং দক্ষ ও উদ্ভাবনী মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উদ্ভাবনী, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পাশাপাশি পরিবর্তিত বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে।

নীতিনির্ধারণী এ সংলাপের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপান্তর, মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!