মো. কোরবান আলী,
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার,উল্লাপাড়া উপজেলা :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নৌযান শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এ নিয়োগের জন্য কোনো বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। রাজনৈতিক সুপারিশ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের অধীনে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ২৪ জনকে নৌযান শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর বাইরে নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিসংখ্যান কার্যালয়ে কর্মরত আরও চারজনকেও এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো ধরনের আবেদন গ্রহণ কিংবা পরীক্ষা ছাড়াই ইউনিয়নভিত্তিক তথ্য সংগ্রহকারী নির্বাচন করা হয়েছে। এতে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে হাটিকুমরুল ইউনিয়নে একই পরিবারের দুই ভাই আব্দুল মতিন ও আব্দুল মমিনের নাম তথ্য সংগ্রহকারীর তালিকায় থাকায়।
এদিকে এসব অভিযোগের মধ্যেই গত ২০ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে নৌযান শুমারি। আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে।
বড়হর ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া বিআরডিবি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার ইউনিয়ন থেকে নৌযান শুমারির জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন।
জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহমুদা খাতুন বলেন, পুরো জেলায় নৌযান শুমারির জন্য মোট ১৫০ জন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় আবেদন ও পরীক্ষা নেওয়া হলেও উল্লাপাড়ায় নিয়োগের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর ছিল। তিনি তার মতো করে লোক নিয়োগ দিয়েছেন।
আবেদন ও পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি ইউএনওর দায়িত্ব ছিল। তিনি যেটা ভালো মনে করেছেন, সেটাই করেছেন।”
তবে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, হাতে মাত্র দুই দিন সময় থাকায় আবেদন গ্রহণ ও পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, নৌযান শুমারির দায়িত্ব পরিসংখ্যান কার্যালয়ের; এটি ইউএনওর বিষয় নয়। তবে অভিযোগের বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
নৌযান শুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না—এখন সেটিই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।