ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সরকারি রাস্তা থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইট তুলে নিজ বাড়ির সামনে স্তূপ করে রাখার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। সরেজমিন তদন্তে সরকারি রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ার পর অভিযুক্ত মোঃ ইদ্রিস মাতুব্বর গংকে শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য তলব নোটিশ জারি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার বিশারী কান্দা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হায়দার হোসেন সরকারি রাস্তা বিনষ্ট ও রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তুজারপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত মোঃ ইদ্রিস মাতুব্বর তার বাড়ির সংলগ্ন চলাচলের রাস্তা থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইট তুলে বাড়ির সামনে স্তূপ করে রেখেছেন। তদন্তের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি রাস্তাটি তার নিজের জমির ওপর অবস্থিত বলে দাবি করেন। তবে ভূমি অফিসের রেকর্ড পর্যালোচনায় তার দাবির সমর্থনে কোনো বৈধ মালিকানার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমি অফিসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তুজারপুর মৌজার বিএস ১৮৩৫ ও ১/১ খতিয়ানের বিএস ৫৭০৪ নম্বর দাগের ২৯ শতাংশ সম্পত্তিতে অভিযুক্ত বা অভিযোগকারী—কারও নামেই বৈধ একক স্বত্ব বা মালিকানা রেকর্ড নেই। ফলে সরকারি রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়ার বিষয়ে অভিযুক্তের দাবির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাদারুল আলম স্বাক্ষরিত প্রসেস নম্বর-২৬৭-এর নোটিশে অভিযুক্ত মোঃ ইদ্রিস মাতুব্বর গংকে আগামী ২৭ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০টায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদিসহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার কারণে ওই রাস্তার চলাচল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত রাস্তা সংস্কার করে তুলে নেওয়া ইটগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার বা আত্মসাতের চেষ্টা হলে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস না পায়, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী শুনানিতে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।