টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ১০ পিস ইয়াবাসহ চাতুটিয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর সহযোগী মনিরুজ্জামান মুন্নাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধ্যার পর সৈয়দপুর গ্রামের প্রধান সড়ক দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে স্থানীয় বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন শিক্ষক রেজাউল করিম ও তাঁর বন্ধু গুলিপেচা গ্রামের মনিরুজ্জামান মুন্না। মোটরসাইকেলটি বেপরোয়া গতিতে চলতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়। এ সময় তারা মোটরসাইকেল রেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পালানোর সময় মনিরুজ্জামান মুন্না পা পিছলে পড়ে আহত হন। পরে তাঁকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে দুজনকেই মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, শিক্ষক রেজাউল করিম নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতেন না। বিদ্যালয়ে এলেও ছুটির পর অফিসকক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে সেখানে মাদকসেবীদের নিয়ে আড্ডা দিতেন। প্রায় ছয় মাস আগে বিষয়টি স্থানীয়রা মৌখিকভাবে গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে জানিয়েছিলেন। তবে তখন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সন্দেহবশত মোটরসাইকেলটি থামানোর চেষ্টা করা হলে রেজাউল করিম ও মুন্না মোটরসাইকেল রেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসলাম ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। শিক্ষক তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ইয়াবাসেবী হলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।”
গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক রেজাউল করিমকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জানানো হচ্ছে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।