শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুরের শিবচরে একই পরিবারের ১০ জন সদস্য রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের মগড়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খাবার খেতে বসেন। খাবার খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাদের অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মধ্যে লুটিয়ে পড়েন। তাদের শরীরে কোনো নড়াচড়ার শক্তি ছিল না এবং তারা স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারছিলেন না।
ঘটনার সময় পরিবারের প্রধান নয়ন শেখ কাজের সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে একাধিকবার ফোন করেও কারো সাড়া না পাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি প্রতিবেশীদের ফোন করে খোঁজ নিতে বলেন। বিকেল চারটার দিকে এক প্রতিবেশী বাড়িতে গিয়ে তাদের অচেতন ও অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে ঢাকা থেকে নয়ন শেখ ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন বাড়িতে ছুটে আসেন। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো—হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন রাতে বাড়িতে থাকা আরও কয়েকজন নতুন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদেরও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সবমিলিয়ে একই পরিবারের মোট ১০ জন সদস্য এই রহস্যজনক অসুস্থতার শিকার হন।
অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—নয়ন শেখের মেয়ে মনিকা আক্তার (২৭) ও তার স্বামী শহিদুল শিকদার, সাগরিকা আক্তার (২৫), ইতি আক্তার (২০), সুমাইয়া আক্তার (২২) ও তার স্বামী আসাদ মোড়ল, ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান (১৪), নয়ন শেখ (৫৫) এবং আমেনা বেগম (৫০)। বাকি দুই সদস্যের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অসুস্থ সাগরিকা আক্তার বলেন, সকালে রান্না করে আমরা একসঙ্গে খেতে বসি। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমাদের হাত-পা নড়াচড়ার শক্তি ছিল না, কথা বলতে পারছিলাম না। তিনি আরও জানান, বাবা ঢাকা থেকে আসার পর ঘরের আগের সব খাবার ফেলে দেওয়া হয়। পরে রাতে আমাদের ফুপু নতুন করে রান্না করেন। কিন্তু সেই নতুন রান্না করা খাবার খাওয়ার পরও বাবা ও ফুপু একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আরেক সদস্য মনিকা আক্তারের মতে, আমাদের খাবারে বা পানিতে কেউ পরিকল্পিতভাবে কিছু মিশিয়ে থাকতে পারে। তা না হলে একই পরিবারের এতগুলো মানুষ এভাবে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ার অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াসিফ জানান, রোগীরা অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। তবে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।