মো. জিহাদ সরকার, সিটি রিপোর্টার
জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার এবং এলাকার মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা কাছ থেকে জানতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ।
‘মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজ ঢাকা-১৩ আসনের বসিলা এলাকার এক নাগরিকের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চা পান করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে শুধু সংসদে বক্তব্য দেওয়া বা অফিসে বসে মানুষের কথা শোনাই যথেষ্ট নয়। মানুষের কাছে যেতে হবে এবং তাদের জীবনযাপন ও বাস্তব সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখতে হবে। এ লক্ষ্যেই ঢাকা-১৩ আসনের জনগণের জন্য ‘মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আপনারা যদি আমাকে চায়ের দাওয়াত দেন, আমি অবশ্যই আসব। মানুষের সঙ্গে সরাসরি বসে কথা বলার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-১৩ আসনের জনগণের অংশগ্রহণে নিয়মিত ওপেন টাউন হল আয়োজন করা হচ্ছে। তবে অনেকেই বড় পরিসরের অনুষ্ঠানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাদের জন্যই ঘরোয়া পরিবেশে সরাসরি মতবিনিময়ের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এলাকার সমস্যা, নাগরিকদের পরামর্শ ও সম্ভাবনার কথা আরও গভীরভাবে জানা সম্ভব হবে।
বসিলা ও মোহাম্মদপুর এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, গত কয়েক মাসে কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মোহাম্মদপুর ঢাকা শহরের বৃহৎ জনসংখ্যার একটি এলাকা উল্লেখ করে তিনি জানান, বসিলা ও রায়েরবাজারের জন্য পৃথক দুটি থানা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে থানা দুটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এতে এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও সক্ষমতা আরও বাড়বে।
কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকা থেকে অপরাধীরা এসে ঢাকা-১৩ এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত ফিরে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে বসিলা ব্রিজ এলাকায় শক্তিশালী বিট পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ঢাকা-১৩-কে নিরাপদ, আধুনিক ও জনবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ববি হাজ্জাজ বলেন, এমন একটি ঢাকা-১৩ গড়ে তুলতে চান, যেখানে মানুষ বসবাসের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ পাবে। মোহাম্মদপুরে যাওয়ার কথা শুনে মানুষ যেন নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে, সেই পরিবেশ তৈরিই লক্ষ্য।
এ সময় মোহাম্মদপুরে শিগগিরই একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির কোনো পরীক্ষা নেই। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের পরীক্ষা নিলে তা নিয়মবহির্ভূত হবে। দেশে পরিচালিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
চায়ের আড্ডায় পরিবারের সদস্যরা এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে নিজেদের সম্পৃক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, শিল্প ও সৃজনশীল কার্যক্রমে সহযোগিতা করার বিষয়ে তারা আগ্রহের কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, “আমার স্বপ্ন হলো ঢাকা-১৩ এমন একটি আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে, যেখানে দেশের মানুষ বসবাসের স্বপ্ন দেখবে।”
এ সময় স্থানীয় নাগরিকরা এলাকার নিরাপত্তা, শিক্ষা, যোগাযোগ, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ ও পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।