বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

ধর্ষণচেষ্টার মামলা তুলে নিতে হত্যার ও পেট্রলবোমা হামলার হুমকির অভিযোগ

আল আমীন সরদার
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৫ pm
ধর্ষণচেষ্টার মামলা তুলে নিতে হত্যার ও পেট্রলবোমা হামলার হুমকির অভিযোগ

আল আমীন সরদার

ভেদরগঞ্জ ( শরীয়তপুর) প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হত্যার ও ঘরবাড়িতে পেট্রলবোমা হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরকুমারিয়া ইউনিয়নে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত মিলন ঢালী (৩৩) ও আনোয়ার ঢালী (৩৬) নামে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট ভুক্তভোগী নারীর মা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় মামলাটি করেন।

মিলন ঢালী চরকুমারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন এবং তিনি ঢালীকান্দি এলাকার আক্কাস ঢালীর ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট দুপুরে ২৩ বছর বয়সী ওই নারী বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় বাড়িতে তিনি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না।

অভিযোগ, এ সুযোগে পাশের বাড়ির বাসিন্দা মিলন ঢালী তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলে তাকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি।

পরে আহত অবস্থায় ওই নারীকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এর আগেও বিভিন্ন সময় ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে অভিযুক্তকে সতর্ক করা হয়।

পরিবারটির অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। গত ১১ আগস্ট দুপুরে মিলন ঢালী ফোন করে মামলা তুলে না নিলে তাদের হত্যা এবং ঘরবাড়িতে পেট্রলবোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

এ ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে গত কয়েকদিন ধরে তারা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াসিম ঢালী বলেন, ‘মিলন দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তাকে একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। এরপরও গত ৫ আগস্ট বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন সরদার বলেন, ‘মামলা হওয়ার পরও যদি আসামি বাইরে থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিতে পারে, তাহলে বিষয়টি উদ্বেগের। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মিলন আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় হুমকি দিত। ঘটনার দিন মা কাজে পাশের বাড়িতে গেলে সে ঘরে ঢুকে আমাকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি চিৎকার করলে আমাকে মারধর করে চলে যায়।

মামলা করার পর এখন মাকে ফোন করে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

মামলার বাদী ওই নারীর মা বলেন, মামলা করার পর থেকে তাদের নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে হত্যার পাশাপাশি ঘরবাড়িতে পেট্রলবোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মিলন ঢালী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, ভুক্তভোগী নারীর ভাইয়ের কাছে তিনি টাকা পান।

সেই টাকা চাইতে গিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন।

অভিযুক্তের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচ এম জাকির হোসেন বলেন, ‘চরকুমারিয়া ইউনিয়নে ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপরাধ করলে তার দায় ছাত্রদল নেবে না। কমিটি সচল থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। অপরাধীর কোনো স্থান ছাত্রদলে নেই।’

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়েছে এবং মামলার কপি আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হুমকির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!