মোঃ মহিন উদ্দিন
গাজীপুরের মাওনা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক গ্রাহক। তার দাবি, অস্বাভাবিক বিল সংশোধনের আবেদন নিয়ে অফিসে গেলে সংশ্লিষ্ট বিলিং সুপারভাইজার তাকে সরকারের কাছে বিল মাফ করে দেওয়ার আবেদন করতে বলেন। প্রতিবাদ জানালে ওই কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে তাকে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী জানান, তার মিটারে এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয় ১৩০ ইউনিট, মে মাসে ১৭৫ ইউনিট। অথচ জুন মাসে বিল আসে শূন্য ইউনিটের, যার বিল ছিল ১০৩ টাকা। এরপর জুলাই মাসে হঠাৎ করে ৯৯০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখিয়ে বিল করা হয় ১৪ হাজার ৮৯১ টাকা।
এমন অস্বাভাবিক বিল দেখে বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি মাওনা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যান এবং নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনটি নিয়ে বিলিং সুপারভাইজার তাসলিমা আপার টেবিলে গেলে তিনি বিষয়টি অন্য টেবিলে নিয়ে যেতে বলেন। তখন অভিযোগকারী জানান, আবেদনটি তার কাছেই পাঠানো হয়েছে। এ সময় ওই কর্মকর্তা বিরক্তি প্রকাশ করে তাকে সরকারের কাছে বিল মাফ করে দেওয়ার আবেদন করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারী বলেন, “আমি মাফ করে কেন নেব? আপনারা সঠিক সময়ে মাঠে গিয়ে মিটার রিডিং নিলে তো এমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।”
এ কথা বলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ তার। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তাকে অফিস থেকে বাইরে চলে যেতে বলেন।
অভিযোগকারীর প্রশ্ন—এক মাসে যদি শূন্য ইউনিট এবং পরের মাসে ৯৯০ ইউনিট ব্যবহার দেখানো হয়, তাহলে প্রকৃত মিটার রিডিং কীভাবে যাচাই করা হয়েছে? মিটার রিডিংয়ে কোনো ভুল হয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারিগরি সমস্যার কারণে অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে—তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক।
স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এ ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত মিটার পরীক্ষা, পূর্ববর্তী মাসের রিডিং যাচাই এবং প্রয়োজন হলে সংশোধিত বিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে গ্রাহকের সঙ্গে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণও যেন দায়িত্বশীল ও হয়রানিমুক্ত হয়, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে মাওনা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য দিতে চাচ্ছে না
তাহলে কি দরে নিভ পল্লী বিদ্যুতের বিল নিয়ে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ সত্যি এবং গ্রাহকের ভোগান্তি