টঙ্গী, গাজীপুর প্রতিনিধি-
তানিয়া আক্তার ফারজানা
আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬ আকাশে দেখা যাবে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পুরোপুরি ঢেকে দিলে যে বিরল দৃশ্য তৈরি হয়, সেটিই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। তবে এই গ্রহণের দৃশ্য থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত থাকবে। দেশের কোনো স্থান থেকেই ১২ আগস্টের গ্রহণের পূর্ণ কিংবা আংশিক পর্যায় দেখা যাবে না।
গ্রহণটি মূলত উত্তর গোলার্ধের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। পূর্ণগ্রহণের সরু পথ উত্তর রাশিয়ার একটি অংশ থেকে শুরু হয়ে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড পেরিয়ে স্পেন ও পর্তুগালের একটি ছোট অংশ পর্যন্ত পৌঁছাবে। এই পথের বাইরে ইউরোপের বড় অংশ, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
পূর্ণগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যের উজ্জ্বল চাকতি সম্পূর্ণ ঢেকে দেবে। গ্রহণের কেন্দ্রীয় পথে সর্বোচ্চ পূর্ণগ্রহণের স্থায়িত্ব হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড। এই অল্প সময়ের জন্য সূর্যের উজ্জ্বল অংশ আড়াল হয়ে চারপাশে অস্বাভাবিক অন্ধকার নেমে আসবে এবং সূর্যের করোনা বা বাইরের বায়ুমণ্ডল দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
ইউরোপের বিভিন্ন শহর থেকেও গ্রহণটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। স্পেনের কিছু এলাকায় সূর্যের প্রায় পুরো অংশ ঢেকে যাবে। মাদ্রিদে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বার্সেলোনায় প্রায় ৯৯ শতাংশ সূর্য ঢাকা পড়তে পারে। লন্ডনে প্রায় ৯১ শতাংশ এবং প্যারিসে প্রায় ৯২ শতাংশ সূর্য চাঁদের আড়ালে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিক থেকেও পূর্ণগ্রহণ দেখা যাবে। সেখানে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে গ্রহণ পূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা এবং পূর্ণগ্রহণ প্রায় এক মিনিট স্থায়ী হতে পারে।
বাংলাদেশে কেন দেখা যাবে না? সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর সব জায়গায় পড়ে না। চাঁদের মূল ছায়া বা ‘আমব্রা’ একটি তুলনামূলক সরু পথে পৃথিবীর ওপর অগ্রসর হয়। এই পথের মধ্যে থাকা অঞ্চল থেকে পূর্ণগ্রহণ দেখা যায়। আর এর বাইরের ‘পেনাম্ব্রা’ অঞ্চলে থাকা জায়গা থেকে আংশিক গ্রহণ দেখা সম্ভব।
১২ আগস্টের গ্রহণের দৃশ্যমান অঞ্চল মূলত ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং উত্তর আটলান্টিকের বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত। বাংলাদেশ এই দৃশ্যমানতা অঞ্চলের বাইরে থাকায় দেশের কোনো স্থান থেকেই গ্রহণটি দেখা যাবে না।
অর্থাৎ, ঢাকাসহ বাংলাদেশের কোথাও সেদিন সূর্যের ওপর চাঁদের ছায়া পড়তে দেখা যাবে না। দেশের আকাশে সূর্য স্বাভাবিকভাবেই দেখা যাবে।
গ্রহণ কখন শুরু ও শেষ হবে?বিশ্বব্যাপী গ্রহণের প্রথম আংশিক পর্যায় শুরু হবে ১২ আগস্ট ১৫:৩৪:১৫ UTC-তে। এরপর ১৬:৫৮:০৯ UTC-তে পূর্ণগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা। সর্বোচ্চ গ্রহণ হবে ১৭:৪৬:০৬ UTC-তে। পূর্ণগ্রহণের শেষ পর্যায় হবে ১৮:৩৪:০৭ UTC-তে এবং পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে ১৯:৫৭:৫৭ UTC-তে। তবে এগুলো পুরো পৃথিবীর গ্রহণপথের সময়। নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা শহর থেকে গ্রহণের শুরু, সর্বোচ্চ পর্যায় ও শেষ হওয়ার সময় আলাদা হবে।
বাংলাদেশে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ কবে? বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী দৃশ্যমান সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ২ আগস্টের গ্রহণটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি বাংলাদেশ থেকে পূর্ণগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে না। স্থানীয় অবস্থান অনুযায়ী গ্রহণের মাত্রা ও সময় ভিন্ন হতে পারে।
২ আগস্ট ২০২৭-এর বৃহৎ পূর্ণগ্রহণের মূল পথ স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তর আফ্রিকা, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পূর্ণগ্রহণের মূল পথ যাবে না। চোখের নিরাপত্তা জরুরি, সূর্যগ্রহণ দেখার সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক। এমনকি আংশিক সূর্যগ্রহণের সময়ও সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। সাধারণ সানগ্লাস এ ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়।
গ্রহণ দেখার জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশেষ সোলার ভিউয়িং গ্লাস বা নিরাপদ সোলার ভিউয়ার ব্যবহার করা উচিত। ক্যামেরা, দূরবীন বা টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্যের দিকে তাকানোর ক্ষেত্রেও অবশ্যই উপযুক্ত সোলার ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। ১২ আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে সরাসরি দেখা না গেলেও বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনা। বিশেষ করে ইউরোপের জন্য এটি ঐতিহাসিক। ১৯৯৯ সালের পর মূল ভূখণ্ড ইউরোপের আকাশে এটি হবে প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।