বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

সাভারে মসজিদের মাঠে বোমা সদৃশ প্রেসার কুকার উদ্ধার

এইচ এম সাগর সাভার উপজেলা প্রতিনিধি
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৮ pm
১১১
সাভারে মসজিদের মাঠে বোমা সদৃশ প্রেসার কুকার উদ্ধার

ঢাকার সাভারে একটি মসজিদের মাঠ থেকে বোমা সদৃশ প্রেসার কুকার উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সকালে সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠ থেকে সন্দেহজনক বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম পড়ে থাকতে দেখেন তারা। ড্রামটি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা সেটির ভেতরে কাপড়চোপড়, একটি কোরআন শরীফ ও প্রেসার কুকার দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ওই নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে যায়। তবে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তারা কী উদ্দেশ্যে ড্রামটি সেখানে রেখেছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমরান হোসেন সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়।

ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমরান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক বস্তুটির বিষয়ে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হয়েছে এবং তারা ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগে উদ্ধার হওয়া প্রেসার কুকারটি প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরক কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, মসজিদের মাঠের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ড্রামটি সেখানে রেখে গেছে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সকালে তার নজরে এসেছে। ঘটনাস্থলে সাভার মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্দেহজনক বস্তুটি ঘিরে যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যদের মাধ্যমে বস্তুটি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছে। রাতের বেলায় ওই এলাকায় অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তির চলাচল ছিল কি না, মসজিদের মাঠে কারা যাতায়াত করেছে এবং নীল রঙের ড্রামটি কখন সেখানে রাখা হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে জানা গেছে। তদন্তের পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তবে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া বস্তুটিকে প্রকৃত বোমা বা বিস্ফোরক হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে মসজিদের মাঠে সন্দেহজনক ড্রাম রেখে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!