ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২৪৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভিনের নির্দেশনায় সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) এসব অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. আঃ মুত্তালিবসহ একটি দল প্রথম অভিযান চালায় আশুলিয়া থানার দুর্গাপুর পশ্চিমচালা এলাকায়। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে মো. সালাউদ্দিন (২৬) ও মো. সাজু হোসেন (২৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন আশুলিয়ার দুর্গাপুর পশ্চিমচালা এলাকার মো. মাদার আলীর ছেলে এবং সাজু হোসেন একই এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে।
পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে ৪৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় ৪ দশমিক ৬ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ হাজার ৮০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের দিকে সাভার মডেল থানাধীন মধ্য শ্যামপুর এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে ডিবি (উত্তর)।
এ অভিযানে ফারুক হাসান (৪০) ও মো. আলী হোসেন (৪৬) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফারুক হাসান ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আলগীরচর এলাকার জজ মিয়ার ছেলে। অপর আসামি মো. আলী হোসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আমবাগিচা এলাকার মৃত মুনসুর আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি চুনকুঠিয়া চৌরাস্তা শাহ টাওয়ার এলাকায় বসবাস করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবার ওজন প্রায় ১২০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ফারুক হাসানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে। অপরদিকে মো. আলী হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার চারজনই পেশাদার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।