মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

গলাচিপায় ৬ শিক্ষকের পাঠদানে ৫ জনে পাস মাত্র ১।

মোঃ সুমন খান.মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার. গলাচিপা
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৪ pm
৫০
গলাচিপায় ৬ শিক্ষকের পাঠদানে ৫ জনে পাস মাত্র ১।

ছয়জন শিক্ষক, পাঁচজন পরীক্ষার্থী—পাস করেছে মাত্র একজন। ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে এবার গলাচিপায়র পানপট্টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফল এসে ঠেকেছে মাত্র ২০ শতাংশে। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠদান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে ব্যস্ত থাকা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল অনুযায়ী, পানপট্টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৪ জন। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে প্রতিদিন নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক সময় শিক্ষকরা যথাযথভাবে পাঠদান না করে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারে ব্যস্ত থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় পাঠ গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা শিক্ষার্থীর তুলনায় পর্যাপ্ত থাকার পরও যদি নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত না হয় এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রতিবছর খারাপের দিকে যায়, তাহলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

প্রতিবছর কমছে ফলাফল

তাদের দাবি, পানপট্টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফল কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। পাসের হার কমতে কমতে এবার মাত্র একজন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী বছর পাসের হার শূন্যে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

তাদের প্রশ্ন, শিক্ষার্থী সংকট, নিম্নমুখী ফলাফল এবং পাঠদান নিয়ে অভিযোগ থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে? শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা নিশ্চিত না হলে সরকারি অর্থে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. আসমা আক্তার শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা পাশের হাইস্কুলে চলে যায়। আর যারা বিদ্যালয়ে আসে, তাদের অনেক সময় একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে পড়াশোনা শুরু করাতে হয়।

তিনি বলেন, “আমরা এই ফলাফলের জন্য লজ্জিত।”

গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, পাশেই একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় পানপট্টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তেমন শিক্ষার্থী নেই। পাশাপাশি ভালো শিক্ষকের অভাবেও এমন ফলাফল হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যেহেতু এমপিও হয়ে গেছে, এখন আর বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে বিদ্যালয়টির অবস্থা মূল্যায়ন না করে সরেজমিন তদন্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন কি না, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ক্লাস হয় কি না, পাঠদানের মান কেমন, শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহারের করেন এবং কেন প্রতিবছর ফলাফল নিম্নমুখী হচ্ছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থী সংকটের প্রকৃত কারণও খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদান এবং শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছয়জন শিক্ষক ও পাঁচজন পরীক্ষার্থীর একটি প্রতিষ্ঠানে পাস করেছে মাত্র একজন। প্রধান শিক্ষিকা ফলাফলের জন্য লজ্জিত, শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন শিক্ষার্থী সংকট ও ভালো শিক্ষকের অভাবের কথা। আর স্থানীয়দের অভিযোগ নিয়মিত পাঠদান নিয়েও। সব মিলিয়ে পানপট্টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক নজরদারি।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!