মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

একজন ছাত্রনেতা, শিক্ষক থেকে মন্ত্রী - এখন রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় মির্জা ফখরুল

মো জিহাদ সরকার
রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮ pm
১৪
একজন ছাত্রনেতা, শিক্ষক থেকে মন্ত্রী - এখন রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় মির্জা ফখরুল
একজন ছাত্রনেতা, শিক্ষক থেকে মন্ত্রি - এখন রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় মির্জা ফখরুল

মো: জিহাদ সরকার

সিটি রিপোর্টার, ঢাকা

ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা। এরপর শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, স্থানীয় রাজনীতি, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক জীবনের পর এবার রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনে এবার যুক্ত হচ্ছে রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার সম্ভাবনা। ৯ আগস্টের প্রতিবেদনে তাঁর নাম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ২৬ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য। পারিবারিক পরিবেশ থেকেই রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়। শিক্ষাজীবনে ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানেও অংশ নেন।

স্বাধীনতার পর সরাসরি রাজনীতিতে না থেকে কিছু সময় শিক্ষকতা করেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে চাকরিতে দীর্ঘ সময় থাকার পর ১৯৮৬ সালে পদত্যাগ করে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।

রাজনীতিতে ফিরে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে বিএনপির রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর বড় সুযোগ আসে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি সরকারের সময়ে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তাঁর দায়িত্ব বাড়তে থাকে। ২০০৯ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন, মামলা, গ্রেপ্তার ও নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন, মামলা ও গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। দলের মহাসচিব হিসেবে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বক্তব্য জনসম্মুখে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মির্জা ফখরুলকে ব্যক্তিগতভাবে ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন অনেকে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় তাঁর নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

একজন ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব—মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ পথচলার পর এখন সামনে এসেছে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে নতুন আলোচনা।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!