রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছে, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল; আপাতত বন্যার শঙ্কা নেই

তানিয়া আক্তার ফারজানা
রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ pm
সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছে, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল; আপাতত বন্যার শঙ্কা নেই

তানিয়া আক্তার ফারজানা, টঙ্গী, (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গত এক সপ্তাহ ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে কাজীপুর পয়েন্টে যমুনার পানি ১৩ দশমিক ৭৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৬ মিটার নিচে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে পানি ছিল ১২ দশমিক ২৭ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার নিচে।

কাজীপুর পয়েন্টে যমুনার বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার এবং সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ১২ দশমিক ৯০ মিটার। গত ৩ আগস্ট থেকে যমুনার পানি বাড়তে শুরু করে। এরপর ছয় দিনে কাজীপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে ৭৬ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে বেড়েছে ৮৩ সেন্টিমিটার।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ এবং সেখানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে যমুনার পানি বাড়ছে। আগামী এক থেকে দুই দিন নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এরপর আবার পানি কমতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তিনি জানান, বন্যার পূর্বাভাস অনুযায়ী আপাতত যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। গত জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে নদীর পানি আট থেকে দশবার বাড়লেও এখন পর্যন্ত তা বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

তবে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চৌহালী এলাকায় শতাধিক বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন চরও পানির নিচে চলে গেছে। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. আবদুল জলিল জানান, এখনো পানি বসতবাড়ির ভেতরে ঢোকেনি। কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ চরগ্রামও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে এসব এলাকার অনেক মানুষ দৈনন্দিন কাজের সুযোগ হারিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল আওয়াল জানান, বড় ধরনের ফসলের ক্ষতি আপাতত এড়ানো গেছে। কারণ অধিকাংশ ধান ও পাট ইতোমধ্যে কেটে ঘরে তোলা হয়েছে। তবে নদীর পানি যদি বিপৎসীমা অতিক্রম করে, তাহলে উঁচু জমিতে থাকা সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাউবো বলছে, আগামী এক থেকে দুই দিন যমুনার পানি বাড়তে থাকলেও পরিস্থিতি বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তবে নদীর পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ এবং কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!