ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভারতের এক নাগরিককে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে জন্মনিবন্ধনটি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির নামে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহেরও চেষ্টা চলছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পশ্চিম জেলার শিবনগর এলাকার কৃষ্ণকিশোরনগরের এক বাসিন্দা ২০২৩ সালে বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন গ্রহণ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের নাম পরিবর্তন করে তিনি ‘শমীর চন্দ্র সরকার’ নামে জন্মনিবন্ধন করলেও পিতা-মাতার পরিচয় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রামাণ্য দলিল বা সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—জন্মনিবন্ধন দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব, পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।অভিযোগে বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য হিসেবে পরিচিত। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম বলেন, “আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রকৃত অর্থে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্তে তা প্রমাণিত হওয়ার পর চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জন্মনিবন্ধনটি কীভাবে ইস্যু হয়েছে এবং এতে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম ছিল কি না, তা দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে।