চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়াসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি কালো রঙের নোহা স্কয়ার হাইব্রিড মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ডিউটিরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটি কালো রঙের নোহা মাইক্রোবাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের সার্বিক নির্দেশনায়, মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এবং জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়।
ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেট্রো-চ-১২-৮০০৯ নম্বরের নোহা মাইক্রোবাসটি চেকপোস্টে পৌঁছালে পুলিশ সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আটক ব্যক্তিদের দেখানো মতে, গাড়ির পেছনের বাম পাশের সিটের পাদানির নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারের স্ক্রু খুলে তেলের ট্যাংকের ভেতর থেকে ৪০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০০ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, উদ্ধার করা মাদকের মোট ওজন ৩ কেজি ৮৪৫ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি কালো রঙের নোহা স্কয়ার হাইব্রিড মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—খুলনা সদর এলাকার মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রবি (৪০), মো. আলাউদ্দিন শেখ (২৮) এবং মো. মোশারফ শিকদার জাম্বু (৩৫)।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশকে জানান, গাড়িটি খুলনা থেকে কক্সবাজারে নেওয়ার পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিশেষ কৌশলে তেলের ট্যাংকের সঙ্গে গোপন চেম্বার তৈরি করে সেখানে ইয়াবাগুলো লুকিয়ে রাখে। পরে সেগুলো ঢাকায় পৌঁছে পলাতক সহযোগীদের কাছে সরবরাহের উদ্দেশ্যে তারা পরিবহন করছিলেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পলাতক আসামির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।