তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নকে প্রশাসনিকভাবে সাভার উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেরানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এ উদ্যোগ বাতিল করে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নকে সাভার উপজেলার সঙ্গেই বহাল রাখার জোর দাবি জানান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে সাভার উপজেলার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইউনিয়নটির জনগণের জীবনযাত্রা সাভারকেন্দ্রিক।
তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ, গণশুনানি কিংবা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ইউনিয়নটিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থবিরোধী এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনিক সীমারেখা পরিবর্তন করা হলে ভূমি অফিস, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের ভাষ্য, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের কর্মস্থল সাভারে অবস্থিত। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পাঞ্চল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্যাংক, বাজার এবং ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে ইউনিয়নটিকে কেরানীগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করা হলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং স্লোগান দেন— "তুমি কে? আমি কে? সাভারী, সাভারী", "আমার মাটি, আমার মা—কেরানীগঞ্জ যাব না", "তেঁতুলঝোড়া দিচ্ছে ডাক, ষড়যন্ত্র নিপাত যাক" এবং "আমরা সাভারের মানুষ—সাভারেই থাকব"।
বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নকে সাভার উপজেলার অধীনেই বহাল রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রস্তাবটি বাতিল না করা হলে এলাকাবাসী আরও বৃহত্তর ও কঠোর গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। পাশাপাশি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ মানববন্ধনে সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন সরকার, ঢাকা জেলা যুবদল নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার শাওনসহ তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।