টঙ্গী, গাজীপুর প্রতিনিধি-
তানিয়া আক্তার ফারজানা
গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রধান আমিষের উৎস মুরগি, ডিম ও দুধের দাম আবারও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিম ও দুধের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এতে দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যার দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায়। এদিকে ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১১০ টাকায়। বিভিন্ন দোকানে মিল্কভিটার এক লিটার দুধও ১১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশি মুরগি ও দেশি ডিমের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে।
ক্রেতারা বলছে প্রতি সপ্তাহেই বাজারে গিয়ে নতুন দাম দেখতে হচ্ছে। আগে তুলনামূলক কম দামে ব্রয়লার মুরগি কিনে পরিবারের আমিষের চাহিদা মেটানো যেত। এখন সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিম ও দুধের দাম বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নারিন্দার গৃহিণী রুমা আক্তার বলেন, মাছ-মাংসের পরিমাণ আগেই কমিয়ে দিয়েছেন। এখন সন্তানদের জন্য ডিম ও দুধ কিনতেও হিসাব করে চলতে হচ্ছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে পরিবারের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, খামার পর্যায়েই মুরগির দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পোল্ট্রি খাদ্য, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। যাত্রাবাড়ীর আড়তের এক ডিম বিক্রেতা জানান, খামার পর্যায়ে বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে ডজন প্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পোল্ট্রি খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার কারণে মুরগি ও ডিমের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ফলে মুরগি, ডিম ও দুধের মতো প্রয়োজনীয় আমিষ পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।