বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন মোঃ মোশফিকুর রহমান স্বপন
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ pm
গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি

গ্যাস সংকট নিরসন, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল প্রত্যাহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণসহ ১১ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা।

বুধবার (৬ আগস্ট) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে চলমান গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গ্যাসের সংকটের কারণে আবাসিক গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক যানবাহন গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছে না। এতে পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সাধারণ ভোক্তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।

এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।

বাজারে সিন্ডিকেট ও মজুতদারি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

গত তিন মাসের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অতিরিক্ত চার্জ বাতিল করা।

অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ আবেদন ছাড়াই গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া।

বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও স্বাধীন অডিট পরিচালনা।

‘গ্যাস না থাকলে বিল নয়’ নীতি কার্যকর করা।

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি।

মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।

গ্যাসের অপচয় ও চুরি রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

স্মারকলিপির শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি মুফতি মো. আজিজুল হক,জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ, জেলা এলডিপির সাধারণ সম্পাদক শেখ এমদাদুল হক, জাতীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম আহবায়ক সাইমন আহমেদ শিহাব।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!