সারাদেশের পাশাপাশি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কাঁচা সবজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাবে উপজেলার খুচরা ও পাইকারি বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে। হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
উপজেলার আবাদপুকুর হাটসহ বিভিন্ন স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির আগে ৪০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন সবজি বর্তমানে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, করলা, টমেটোসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দামই চড়া। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম। কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, কয়েকদিন আগেও ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ফলে ঝালের পাশাপাশি পেঁয়াজের ঝাঁজও বেড়েছে সাধারণ মানুষের সংসারে।
সবজি বিক্রেতারা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেতের সবজি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় নতুন সবজি সংগ্রহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দূরবর্তী এলাকা থেকে সবজি এনে বিক্রি করতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। সরবরাহ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি- এই দুই কারণেই বাজারে সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
এদিকে আবাদপুকুর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটে আসা ক্রেতারা জানান, সীমিত আয়ে এখন প্রয়োজনীয় পরিমাণ সবজি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসারের ব্যয় সামাল দিতে অনেকেই কেনাকাটার তালিকা ছোট করছেন, আবার কেউ কেউ আগের তুলনায় অর্ধেক পরিমাণ সবজি কিনে বাড়ি ফিরছেন।
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
তবে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আবহাওয়ার উন্নতি হয়ে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আব্দুল্লাহ আল মাহীদ