বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

হলিউডের কিংবদন্তি মেরিলিন মনরো: সৌন্দর্য, খ্যাতি ও বেদনাময় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

তানিয়া আক্তার ফারজানা তানিয়া আক্তার ফারজানা
বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ pm
হলিউডের কিংবদন্তি মেরিলিন মনরো: সৌন্দর্য, খ্যাতি ও বেদনাময় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সৌন্দর্য, গ্ল্যামার ও জনপ্রিয়তার প্রতীক হিসেবে যে কয়েকটি নাম চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তাদের অন্যতম মেরিলিন মনরো। হলিউডের স্বর্ণযুগের এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও মডেল শুধু একজন তারকাই নন, তিনি বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক অমর প্রতীক। ১৯২৬ সালের ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে নরমা জিন মর্টেনসন নামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে পালক পরিবার ও এতিমখানায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি কারখানায় কাজ করার সময় এক আলোকচিত্রীর নজরে পড়েন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় মডেলিং জীবন, যা পরে তাকে হলিউডের রুপালি পর্দায় নিয়ে আসে।

১৯৫০-এর দশকে মেরিলিন মনরো দ্রুতই হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন। Niagara, Gentlemen Prefer Blondes, How to Marry a Millionaire, The Seven Year Itch, Bus Stop, Some Like It Hot এবং The Misfits-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

১৯৫৯ সালে Some Like It Hot চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জেতেন। এছাড়া The Prince and the Showgirl চলচ্চিত্রের জন্য বাফটা (BAFTA) মনোনয়ন এবং ইতালির ডেভিড দি ডোনাটেলো পুরস্কার লাভ করেন।

নিজের ভাগ্য নিজেই গড়েছিলেন-

স্টুডিওর চুক্তি ও পারিশ্রমিক নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে ১৯৫৪ সালে মেরিলিন মনরো নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় হলিউডে একজন নারী অভিনেত্রীর জন্য এটি ছিল অত্যন্ত সাহসী ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। পরে তিনি অভিনয়ের দক্ষতা আরও বাড়াতে Actors Studio-তে কিংবদন্তি প্রশিক্ষক লি স্ট্রাসবার্গের অধীনে অভিনয় শেখেন।

আলোচিত ব্যক্তিগত জীবন-

মেরিলিন মনরোর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল ব্যাপক আলোচিত। বেসবল কিংবদন্তি জো ডিম্যাজিও এবং নাট্যকার আর্থার মিলার-এর সঙ্গে তার বিয়ে ও বিচ্ছেদ বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছিল। অগণিত সাফল্যের আড়ালে তিনি মানসিক চাপ, একাকীত্ব ও ব্যক্তিগত নানা সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন।

অকাল মৃত্যু-

১৯৬২ সালের ৪ আগস্ট, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজ বাড়িতে মেরিলিন মনরোকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অতিরিক্ত বারবিচুরেট সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয় এবং সেটিকে সম্ভাব্য আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার আকস্মিক মৃত্যু আজও বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রহস্যময় ঘটনাগুলোর একটি।

১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ প্রদর্শনী-

মেরিলিন মনরোর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারিতে "Marilyn Monroe: A Portrait" শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে তার কৈশোর থেকে শুরু করে হলিউড তারকায় পরিণত হওয়া, ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত এবং জীবনের শেষ সময়ের বিরল আলোকচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।

প্রদর্শনীতে কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রিচার্ড অ্যাভেডন, মিল্টন গ্রিন, সিসিল বিটন, ইভ আর্নল্ডসহ অনেকের তোলা ছবি স্থান পেয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই প্রদর্শনী শুধু মেরিলিনের সৌন্দর্য নয়, বরং তার আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দার আড়ালের মানবিক দিকও তুলে ধরেছে।

অমর এক সাংস্কৃতিক প্রতীক-

মৃত্যুর ছয় দশকেরও বেশি সময় পরও মেরিলিন মনরো বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী, শিল্পী ও গবেষকদের অনুপ্রেরণার উৎস। আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট হলিউডের স্বর্ণযুগের ষষ্ঠ সেরা নারী চলচ্চিত্র কিংবদন্তি হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সৌন্দর্য, প্রতিভা, সংগ্রাম ও অসমাপ্ত স্বপ্নের প্রতীক মেরিলিন মনরো আজও বিশ্ব সংস্কৃতির অন্যতম উজ্জ্বল এবং চিরস্মরণীয় নাম।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!