টঙ্গী, গাজীপুর প্রতিনিধি-
তানিয়া আক্তার ফারজানা
দেশের বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া সবুজ মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানি কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে নতুন করে ৯ দশমিক ২ টন সবুজ মরিচ আমদানি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরবরাহ বাড়লে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই মরিচের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টি, মৌসুমি প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় সবুজ মরিচের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মরিচের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, যা ভোক্তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। ভারত থেকে ধারাবাহিকভাবে মরিচ আমদানির ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়ছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও মরিচ আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিকৃত মরিচ বাজারে পৌঁছাতে শুরু করলে পাইকারি বাজারে দাম কমবে। এরপর ধীরে ধীরে এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়বে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা স্বস্তি পাবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা জরুরি। তবেই ভবিষ্যতে এ ধরনের মূল্য অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে। এদিকে ভোক্তারা আশা করছেন, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর হবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি আবারও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরে আসবে। সরকার জানিয়েছে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমদানি, তদারকি এবং বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অসাধু মজুতদারি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শুধু সবুজ মরিচ নয়, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের দামও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
তানিয়া আক্তার ফারজানা