বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

দ্য নিউ ইয়র্ক ২৪ এর সাথে শেখ হাসিনা:আমার বিরুদ্ধে সারা জাতি কতদিন ঐক্যবদ্ধ থাকে!!

নিউজ ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৩ am
দ্য নিউ ইয়র্ক ২৪ এর সাথে শেখ হাসিনা:আমার বিরুদ্ধে সারা জাতি কতদিন ঐক্যবদ্ধ থাকে!!

অনলাইন বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬,
'আড়ালে নয়, কৌশলগতভাবে দৃশ্যমান ছিলাম না’
দ্য নিউ ইয়র্ক ২৪, দিল্লি ব্যুরো:
প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর এখন দিল্লিতে। কিন্তু সম্মেলনের ২৪ ঘণ্টা আগেই ফাঁস হয়ে গেছে সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তরের একটি নথি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার সেই নথির একটি কপি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক ২৪–এর হাতেও এসেছে। প্রকাশ করা হলো ফাঁস হওয়া প্রশ্নোত্তরের নির্বাচিত অংশ।
অর্ণব গোস্বামী: প্রায় দুই বছর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে এলেন। এতদিন নিজেকে আড়ালে রাখার কারণ কী?
শেখ হাসিনা: আড়ালে ছিলাম এটা মিথ্যা কথা। আমি কৌশলগতভাবে দৃশ্যমান ছিলাম না। চাঁদ সবসময় দেখা যায় না, কিন্তু জোয়ার-ভাটা তার প্রভাবেই হয়। আমি চাঁদের কৌশল নিয়েছিলাম।
অর্ণব গোস্বামী: এখনই প্রকাশ্যে আসা কেন জরুরি মনে হলো?
শেখ হাসিনা: কারণ আমি দেখলাম, আমাকে ছাড়া দেশ, রাজনীতি, আলোচনা সবই চলছে। এই পরিবেশ অত্যন্ত বিপজ্জনক ভুল ধারণা তৈরি করছিল। সবাই ভাবছিল আমাকে ছাড়া ভালোই আছে। সেই ভুল ধারণা সংশোধন করা দরকার। জাতিকে বুঝতে হবে আমার কোনো বিকল্প নাই।
অর্ণব গোস্বামী: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঠিক কী ঘটেছিল?
শেখ হাসিনা: খুব সামান্য একটু ভুল- বোঝাবুঝি। গণতন্ত্রে জনগণই শেষ কথা বলে। সমস্যা হলো, তারা জুলাই থেকেই শেষ কথা বলতে শুরু করেছিল। পাঁচ আগস্ট এসে দেখি, শেষ কথাটিও শেষ। আমি স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে একটা সুন্দর ভাষণ লিখে রেখেছিলাম, তারা সেটাও শুনতে চাইল না। তাই আমিও কথা না বলে চলে এলাম।
অর্ণব গোস্বামী: দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত কখন এবং কীভাবে নেন? অনেকে বলছেন, আপনি পালিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা: আমি পালাব কেন! শেখ হাসিনা কখনো পালায় না। আমি শুধু ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন করেছি। কারণ আমি সবসময় গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্বাস করি।
অর্ণব গোস্বামী: শেষ মুহূর্তে কারা আপনার সঙ্গে ছিলেন?
শেখ হাসিনা: যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিলেন, তারা এখনো সঙ্গেই আছেন। শুধু একই দেশে নেই। এখন তাদের নাম বললে আবারও তাদের "শেষ মুহূর্ত" শুরু হয়ে যাবে। কাউকে দ্বিতীয়বার শেষ মুহূর্ত উপহার দিতে চাই না।
অর্ণব গোস্বামী: আপনি কি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হবেন?
শেখ হাসিনা: অবশ্যই হব। আমি আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। তবে আইনেরও কিছু দায়িত্ব আছে। আইনকে আবেগমুক্ত হয়ে বুঝতে হবে, আমার সঙ্গে একমত হওয়াই আইনের জন্য নিরাপদ। আইন অন্ধ; আমি তার চিকিতসার ব্যবস্থা করব; তাকে পথ দেখাব।
অর্ণব গোস্বামী: আপনার ভারতে অবস্থান কি দুই দেশের সম্পর্কে জটিলতা তৈরি করছে?
শেখ হাসিনা: একদমই না, বরং সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। সাধারণত দুই দেশের মধ্যে দূতাবাস থাকে। আমার ক্ষেত্রে আমি নিজেই একটি মোবাইল কূটনৈতিক করিডর। যেখানে আমি থাকি, সেখানেই দুই দেশের সম্পর্ক থমকে থাকে।
অর্ণব গোস্বামী: ভারতে আপনার প্রতিদিনের জীবন কেমন কেটেছে?
শেখ হাসিনা: খুব ব্যস্ততায় কাটছে। ছুটি কাটাতে চেয়েও ছুটিই পাইনি। প্রথমে যোগব্যায়াম শিখতে শুরু করেছিলাম। তারপর দেখলাম যোগ বিষয়টা আমার সঙ্গে ঠিক যায় না, বিয়োগেই স্বস্তি বোধ করি। পরে রাগসংগীতে তালিম নিয়েছি। সবাই বলছে লতা মুঙ্গেশকরের অভাব এবার পূরন হবে। একটু নাচও শিখেছি, কত্থক না ভরতনাট্যম সেটা বলব না।
অর্ণব গোস্বামী: ক্ষমতায় থাকার সময় কি কখনো মনে হয়েছে, আপনার চারপাশে সবাই শুধু আপনার প্রশংসা করছে?
শেখ হাসিনা: একদম না। কেউ বলত, "আপনি ঠিক।" কেউ বলত, "আপনি একদম ঠিক।" সাহসীরা বলত, "আপনি শতভাগ ঠিক।" কঠিন সমালোচকেরা বলত, "আপনি ভুল হতেই পারেন না।" আর বিদ্রোহীগুলি তো রাগ করে বলত, "আপনি এত ঠিক যে মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগে।" আমি সব মতামতকেই সমান গুরুত্ব দিতাম।
অর্ণব গোস্বামী: আপনার শাসনামলে যারা ভয় পেয়েছেন, তাদের বিষয়ে কী বলবেন?
শেখ হাসিনা: ভয় একটা গণতান্ত্রিক অনুভূতি। সবাই নিজের মতো করে ভয় পায়। কেউ পরীক্ষায় ভয় পায়, কেউ বিয়েতে ভয় পায়, কেউ নির্বাচন আর জনতার রায়ে … থাক সে কথা। সব ভয় যদি সরকারের ঘাড়ে চাপানো হয়, তাহলে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাটা থাকে কোথায়!
অর্ণব গোস্বামী: ক্ষমতায় থাকার সময় এমন কেউ ছিলেন, যিনি আপনাকে সরাসরি ভুল ধরিয়ে দিতেন?
শেখ হাসিনা: অবশ্যই ছিলেন। অনেকেই ভুল ধরিয়ে দিতেন। তবে তারা আগে নিশ্চিত হয়ে নিতেন যে আমি সেটাকে ভুল মনে করছি কি না। আমাদের দলে নেতৃত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হয়; ওবায়দুল কাদের এখনও উপুড় হয়ে শুয়ে আমাকে কদমবুসি করে।
অর্ণব গোস্বামী: আপনার সমালোচকেরা বলেন, আপনি ভুল স্বীকার করতেন না।
শেখ হাসিনা: মিথ্যা কথা। আমার নীতিতে ভুল স্বীকারের আগে নিশ্চিত হতে হবে ভুলটা আসলেই ভুল কি না। কারণ ভুল স্বীকার করার পর যদি দেখা যায় সেটাই ঠিক ছিল, তাহলে তো অপ্রয়োজনীয় স্বীকারোক্তি হয়ে গেল।
অর্ণব গোস্বামী: জনগণের কাছে কোনো বিষয়ে ক্ষমা চাইতে চান?
শেখ হাসিনা: অবশ্যই চাই। তবে তার আগে আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আমাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। তখন একটি ‘জাতীয় ক্ষমা কমিশন’ গঠন করব। কমিশন নির্ধারণ করবে কার কাছে, কোন বিষয়ে কতটুকু ক্ষমা চাওয়া হবে।
অর্ণব গোস্বামী: আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
শেখ হাসিনা: নেতৃত্ব ভালো আছে। সমস্যা হলো, অনেকেই এখন বুঝতে পারছেন না সিদ্ধান্তটা কে নিচ্ছেন। আমিও মাঝে মাঝে বুঝতে পারি না। পরে মোদি আর অমিত শাহর সঙ্গে কথা পরিষ্কার হয়ে নেই যে নেতৃত্ব আমিই দিচ্ছি, নাকি নেতৃত্ব আমাকে দিচ্ছে।
অর্ণব গোস্বামী: পার্টির নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে?
শেখ হাসিনা: অবশ্যই আছে। আমরা প্রজন্ম পরিবর্তনে বিশ্বাস করি। তবে নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে তাদের পুরোনো প্রজন্মের মতো ধৈর্য ধরতে হবে। তাদেরকে আগে যথেষ্ট পুরোনো হতে হবে।
অর্ণব গোস্বামী: অর্থনীতির ধ্বস ও অর্থপাচারের দায় কতটা আপনার?
শেখ হাসিনা: অর্থের নিজস্ব স্বাধীনতা আছে, এটা মৌলিক অধিকারের কাছাকাছি একটা বিষয়। অর্থ যদি বিদেশ ভ্রমণ করতে চায়, আমি কি তাকে শিকল পরিয়ে রাখব? আমি টাকার ভিসামুক্ত চলাচলের ব্যবস্থা করেছিলাম। কারণ টাকা বিদেশে গেলে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করে। আমার ছেলেটাও বিদেশে গিয়েই অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
অর্ণব গোস্বামী: ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আপনি বলেছিলেন, সীমান্তের কাছাকাছি আছেন; চট করে দেশে ঢুকে পড়বেন। দুই বছর পর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এলেন। আপনি কবে দেশে ফিরবেন?
শেখ হাসিনা: আমার দেশে ফেরাটা বড় বাজেটের হিন্দি সিনেমোর মতো। ২০২৪-এর সীমান্ত-সংস্করণ ছিল ট্রেলার, ২০২৬-এর ডিসেম্বরে দেশে ফেরা সংস্করণটা টিজার। পুরো সিনেমা কবে মুক্তি পাবে তা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বলব। তবে আমি ফেরার ব্যাপারে আলাদা আলাদা মাসে ঘোষণা দিয়ে সারা বছর ধরে দেশটাকে উৎসবের অনুভূতি দিতে চাই। আর একটা বিষয়ও দেখতে চাই যে; আমার বিরুদ্ধে সারা জাতি কতদিন ঐক্যবদ্ধ থাকে!
Category: Deadpan Satire
© The New York 24 | Real News, Twisted Truths
The New York 24's Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল কতৃপক্ষ দায়ী নন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!