মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

সেনাবাহিনীর ক্ষমতালোলুপতা রাজনৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে

নিউজ ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৮ pm
সেনাবাহিনীর ক্ষমতালোলুপতা রাজনৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে

অনলাইন মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

মুজিব–জিয়া মঞ্চের সমঝোতা কেন অসম্ভব হয়ে উঠলো: সেনাবাহিনীর ক্ষমতালোলুপতা কিভাবে রাজনৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে

স্বরূপ সোহরাওয়ার্দীর প্রবন্ধ “মুজিব–জিয়া মঞ্চের সমঝোতা কেন অসম্ভব হয়ে উঠলো: বামপন্থী সুবিধাবাদ কিভাবে রাজনৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে”-এর একটি সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া।
স্বরূপ সোহরাওয়ার্দীর সাম্প্রতিক প্রবন্ধে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার জন্য প্রধানত বামপন্থী সুবিধাবাদ, বিভাজনের রাজনীতি এবং আদর্শিক আপসকে দায়ী করা হয়েছে। তার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ থাকলেও একটি মৌলিক অনুপস্থিতি চোখে পড়ে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক গতিপথে সেনাবাহিনী ও সামরিক-আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। সেই কারণে আমার প্রতিক্রিয়ার শিরোনাম স্বরূপের কাছাকাছি রেখেছি ।
আমার উদ্দেশ্য স্বরূপের মূল লেখাকে অস্বীকার করা নয়; বরং দেখানো যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ব্যাখ্যা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, যদি সামরিক হস্তক্ষেপ, পাকিস্তানি সামরিক রাষ্ট্রের উত্তরাধিকার, অভ্যুত্থান-প্রতিঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং সামরিক শাসনের রাজনৈতিক প্রকৌশলকে বিশ্লেষণের কেন্দ্রে না আনা হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধু আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা বামপন্থীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের ইতিহাস হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়।
স্বাধীনতার পর বারবার রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার সাংবিধানিক ভূমিকা দেশের প্রতিরক্ষা হলেও বহু সময়ে সেটি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশীদার হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক বিকাশ, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং গণতান্ত্রিক সমঝোতার সংস্কৃতি দুর্বল হয়েছে।
এই বাস্তবতা বোঝার জন্য আরো পেছনে যেতে হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বেসামরিক রাজনীতি ক্রমশ দুর্বল হয় এবং সামরিক-আমলাতান্ত্রিক জোট রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে চলে আসে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের গণতান্ত্রিক রায়, ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলও সে ক্ষমতাকাঠামো মেনে নিতে পারেনি।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যা, ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পরিকল্পিত দমন-পীড়ন শুধু একটি যুদ্ধাপরাধের ইতিহাস নয়; এটি এমন এক সামরিক রাষ্ট্রচিন্তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ, যেখানে জনগণের গণরায়ের পরিবর্তে অস্ত্রকে রাষ্ট্রের বৈধতার উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনীর মতো সহযোগী মিলিশিয়াদের ব্যবহার দেখিয়েছিল কিভাবে একটি সামরিক শাসন রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে রাষ্ট্রের বাইরেও প্রক্সি বাহিনী গড়ে তুলতে পারে। এই ইতিহাস বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা হওয়ার কথা, রাজনীতির ওপর সামরিক কর্তৃত্ব শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে দুর্বল করে।
স্বাধীনতার পর সে শিক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর ধারাবাহিক অভ্যুত্থান, প্রতিঅভ্যুত্থান এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখায় যে সামরিক প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক ভূমিকা শেষ হয়ে যায়নি। রাষ্ট্রক্ষমতা নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, ব্যারাকের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে শুরু করে। এই ধারাবাহিকতা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষয় করে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সামরিক শাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সংবিধান সংশোধন, রাজনৈতিক দল পুনর্গঠন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং রাষ্ট্রের আদর্শগত চরিত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পূর্ববর্তী সাংবিধানিক অবস্থান থেকে সরে আসার ঘটনাও এই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এসব পরিবর্তনকে কেউ বাস্তববাদী রাজনীতি হিসেবে দেখেন, কেউ আবার সামরিক শাসনের রাজনৈতিক বৈধতা তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু এতে সন্দেহ নেই যে এগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করেছে।
স্বরূপ সোহরাওর্দীর প্রবন্ধে জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্রসঙ্গ এসেছে। সে আলোচনা আরও বিস্তৃত করা দরকার। ভুট্টো নিজেকে সমাজতান্ত্রিক ভাষায় উপস্থাপন করলেও তিনি পাকিস্তানের সামরিক-আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরে দীর্ঘ সময় রাজনীতি করেছেন।
 
স্বরূপ তার আলোচনায় বলেছেন, ভুট্টো রজনীতির একটি প্রধান কৌশল ছিল বামপন্থী শক্তিকে বিভক্ত রাখা, তাদের একাংশকে রাষ্ট্রক্ষমতার অংশ করা এবং অন্য অংশকে প্রান্তিক রেখে সামরিক রাষ্ট্রকাঠামোকে শক্তিশালী করা। এই অভিজ্ঞতা দেখায়, কেবল বামপন্থী সুবিধাবাদ নয়, রাষ্ট্রক্ষমতার সামরিক কৌশলগত ব্যবহারও বিভাজনকে স্থায়ী করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশেও সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন যে বিভিন্ন সামরিক শাসনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন, পুনর্গঠন, নতুন জোট সৃষ্টি এবং দলভাঙার প্রবণতা কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক ফল ছিল না; বরং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় রাজনীতির অংশ হিসেবেও দেখা যায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের জন্য শুধু বামপন্থীদের দায়ী করা ইতিহাসকে অসম্পূর্ণ করে।
স্বরূপ ফয়েজ আহমদ ফয়েজের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। তিনি নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। কিন্তু ১৯৭১ সালের গণহত্যা নিয়ে তাঁর নীরবতা এবং পরবর্তী সময়ে ভুট্টোর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিতর্ক রয়েছে।
স্বরূপ বলছেন, এই বিতর্কের শিক্ষা হলো, শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বুদ্ধিজীবীরাও ইতিহাসের নৈতিক বিচারের বাইরে নন। আমি যোগ করতে চাই সামরিক নেতৃত্বও এই বিচারের বাইরে নন।
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এই প্রেক্ষাপটে জটিল। তিনি সামরিক পটভূমি থেকে এলেও বিএনপি কেবল একটি সামরিক উদ্যোগ হিসেবে বিকশিত হয়নি। বিশেষ করে আশির দশকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি একটি বিস্তৃত গণভিত্তিক রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবী এবং গ্রামীণ
সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে দলটি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে ওঠে।
 
এই ইতিহাস বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। দলের প্রকৃত শক্তি জনগণের সমর্থনে, কোনো সামরিক বা আমলাতান্ত্রিক পৃষ্ঠপোষকতায় নয়। যদি একটি গণভিত্তিক দল আবার সামরিক আমলাতন্ত্র ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের যৌথ প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি নিজের রাজনৈতিক বিকাশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
জনগণের আস্থার বিকল্প হিসেবে প্রশাসনিক বা সামরিক সমর্থন কখনও দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক বৈধতা দিতে পারে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপন করে, রাষ্ট্রের ভেতরে এমন কোনো সমান্তরাল ক্ষমতাকাঠামো থাকা উচিত কি, যা নির্বাচিত সরকারের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে?
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের ভিত্তি হলো রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। যখন সেই সীমারেখা অস্পষ্ট হয়, তখন দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার দিকে ঝুঁকে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে সামরিক শিক্ষা ও সামরিক সংস্কৃতির প্রশ্নও আলোচনার দাবি রাখে। বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজসমূহ বহু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করেছে এবং তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমালোচকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক অবস্থান, বেসামরিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক এবং নাগরিক-সামরিক সম্পর্ক নিয়ে আরও বিস্তৃত নীতিগত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সামরিক প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর বেসামরিক তদারকি ও জবাবদিহি শক্তিশালী হওয়া উচিত, যাতে পেশাদার সামরিক সক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, দুটিই সমানভাবে বিকশিত হয়।
একইভাবে, ধর্মীয় বা দাতব্য পরিচয়ে পরিচালিত যেকোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও আর্থিক স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রক তদারকি এবং আইনের শাসন সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যদি কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে সহিংসতা, জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসে অর্থায়নের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ ওঠে, তবে তা স্বাধীন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পথ।
বিশ্বের অভিজ্ঞতাও সতর্কবার্তা দেয়। পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং সুদানের মতো দেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক শাসন বা সামরিক প্রভাব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়িয়েছে। সুদানে জানজাওয়িদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান দেখিয়েছে, যখন রাষ্ট্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনিয়মিত বা সহযোগী বাহিনীকে ব্যবহার করে, তখন তার দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পুরো সমাজকে দিতে হয়।
ইতিহাসের প্রতিটি উদাহরণের নিজস্ব প্রেক্ষাপট রয়েছে, কিন্তু একটি সাধারণ শিক্ষা স্পষ্ট, রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের একচেটিয়া বৈধতা আইন ও জবাবদিহির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকলে তা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই অস্থিতিশীল করে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার ইদানিংকার এক ভাষণে বলছেন, সেনাবাহিনী তাদের তত্বাবধানে থাকা শিক্ষা কাঠামোতে ইসলামি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করতে যাচ্ছে। জেনারেল ওয়াকার আরো বলেন, ২০৩০এর ভেতর এসব কাঠামোর ক্যাপাসিটি দ্বিগুণ হবে। এসব নিয়ে সংসদে, জনপরিসরে কোনও বিতর্ক হয়েছে বলে আমার জানা নাই। সেনাবাহিনী কেন শুধু ইসলামি শিক্ষ প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করবে, তাও আমার বোধগম্য নয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট তাই কেবল “বামপন্থী সুবিধাবাদের” ব্যর্থতার ইতিহাস নয়। এটি সামরিক হস্তক্ষেপ, দুর্বল বেসামরিক প্রতিষ্ঠান, দলীয় মেরুকরণ, সাংবিধানিক অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের সম্মিলিত ইতিহাস। এই উপাদানগুলোর যে কোনো একটিকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখলে বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র কি আবার এমন এক পথে হাঁটবে, যেখানে নির্বাচিত রাজনীতির পরিবর্তে সামরিক বা অর্ধ-সামরিক প্রভাব রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে?
ইতিহাসের আলোকে এই প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। আরেক দফা সামরিক শাসন বা সামরিক-আমলাতান্ত্রিক আধিপত্য বাংলাদেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক দল, বিচারব্যবস্থা এবং নাগরিক সমাজের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়াবে।
প্রয়োজন একটি আধুনিক, পেশাদার, সাংবিধানিকভাবে জবাবদিহিমূলক সামরিক বাহিনী, যার মর্যাদা তার রাজনৈতিক প্রভাব থেকে নয়, বরং তার পেশাদারিত্ব থেকে আসে। ঔপনিবেশিক যুগের ঊর্ধ্বতন শাসকসুলভ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নাগরিক-নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক কাঠামোর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা আরো সুস্পষ্ট করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের পরবর্তী ধাপ হওয়া উচিত।
মুজিব ও জিয়া, উভয় রাজনৈতিক ধারার মধ্যে ন্যূনতম সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক সীমারেখা স্পষ্ট হতে হবে।
বিভাজনের রাজনীতি, ব্যক্তি-নির্ভর ক্ষমতা এবং অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে জনগণের ভোট, সাংবিধানিক শাসন এবং বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনাই হতে পারে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একমাত্র টেকসই পথ।

Arpita Kabir's Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল  কতৃপক্ষ দায়ী নন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!