মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

“মারবো এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে”-

নিউজ ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৫ pm
“মারবো এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে”-


 
  অনলাইন মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
“মারবো এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে”-
কলকাতার বাংলা মুভি ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’র মিঠুন চক্রবর্তীর বিখ্যাত সংলাপ। গত দুই বছরে আমার অবস্থাও অনেকটা এরকমই। যখনই আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে কোন পোষ্ট দেই, তখনই একটা সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী আমার বিরূদ্ধে পোষ্টের ঘটনার সাথে পুরোপুরি সম্পর্কহীন কিছু কাল্পনিক বিষয় নিয়ে দুই একটি মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজির হয়ে যায়। গল্প একই, আর সেটা আমার দূর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের গল্প। তারা কখনো হাজার কোটি, কখনো ২৫ কোটি, ১৩ কোটি, কখনো বা ৫০ লাখের গল্প ফাঁদে! আবার ফ্ল্যাটের বিষয়ে কখনো ২৫, আবার কখনো ৫০ টার গল্পও শুনি। এক/দুটি এনজিও’র নামও ঘুরে ফিরে আসে। একই তথ্য, স্রেফ শিরোনাম পরিবর্তন করে লিখে। কখনো মাহমুদুর রহমান, কখনো জগতের একমাত্র ব্রাহ্মন যিনি বিপুল সংখ্যক বাঙ্গু মুসলমানের জাতির পিতা, কিংবা পৃথিবীর একমাত্র “ইনভেষ্টিগেটিভ জার্নালিস্ট” কিংবা দু’একজন ‘বিশেষ ব্যক্তি’ এগুলো সামনে আনে। তারা মিথ্যাকে এতো সাবলীলভাবে উপস্থাপন করে যে পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় যে কারোই সত্য বলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়। যারা আমাকে পছন্দ করেন কিংবা আমার কাছের থেকে জানেন, বিশ্বাস করেন তাদের কাছেই আজ আমার এই কৈফিয়ত।
## আমি চ্যালেন্জ দিচ্ছি ৫০ টা কেন বাংলাদেশ কিংবা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে আমার কিংবা আমার পরিবারের সদস্যদের নামে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটা ফ্ল্যাটের তথ্য উপস্থাপন করতে পারলে জনতার আদালতে আমাকে ফাঁসি দেওয়া হউক।
## কথিত এনজিও’র সাথে আমার কিংবা আমার পরিবারের সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত হউক, যদি দূরতম কোন সম্পর্ক আমাদের সাথে থাকে তার জন্য যেকোনো শাস্তি আমি মেনে নিতে রাজী।
## কোনো কোনো সৃজনশীল লেখক কানাডা, আমেরিকা কিংবা লন্ডনেও আমার সম্পত্তি থাকার কাহিনী সামনে আনে। আমি ২০০৭ সালে একবার মাত্র এক সপ্তাহের জন্য কানাডা গেলেও আমার পরিবারের অন্য কোনো সদস্য জীবনে কখনো কানাডা কিংবা আমেরিকায় যায় নাই। আর লন্ডনে প্রপার্টির বর্ননা কোন গোপন তথ্য নয়, শুনেছি এগুলো অনলাইনে সার্চ দিলেই বের করা যায়। ‘ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টকে’ এ বিষয়ে কাজ করে সংবাদ প্রতিবেদন বানানোর অনুরোধ রইলো।
## কেউ কেউ আবার সবজান্তার মত আমাদের পারিবারিক বন্ধু লন্ডনপ্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এবং সিলেটের নির্বাচিত মেয়র জনাব আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সাথে আমার যৌথ ব্যবসা আছে বলেও বিভিন্ন সময়ে সৃজনশীল রচনা প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রতি অনুরোধ আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর কি কি ব্যবসা আছে তা তো পাবলিক ডোমেইনেই থাকার কথা-সেটাও দয়া করে খতিয়ে দেখা যেতে পারে।
## আমার বা পরিবারের সদস্যদের যে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট আছে তাতো আর আমি মুছে দিয়ে আসিনি। সেগুলোতে কি পরিমান সম্পদ আছে তাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই বের করে ফেলার কথা।
## আমার কিংবা পরিবারের অন্য কোন সদস্যদের নামে কোথায় কতটুকু জমি-জমা আছে সেটাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা নয় নিশ্চয়ই।
## ২৯ বছর চাকরি করেছি, কোনো পদেই কোথাও কোনো দূর্নীতি করেছি, এমন তথ্য থাকলে সেটা বিশেষ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে প্রকাশ্যে আনা হউক।
## পুলিশে যারা অবৈধ পন্থায় টাকা উপার্জন করে তাদের অনেকের কমন ক্ষেত্রগুলো হলো পদায়ন, কিছু সীমিত ক্ষেত্রে পদোন্নতি। কয়েকবছর পূর্বে নিয়োগ ছিলো অন্যতম খাত, পরবর্তীতে সেটা সীমিত হয়ে যায়। এছাড়া হেড অব ইউনিট হিসাবে কেনা-কাটাও একটা বড় খাত। আমি যে সব পদে চাকরি করেছি, তার মধ্যে এসবি আমার একমাত্র পোস্টিং যেখানে ইউনিট প্রধান হিসাবে কেনা-কাটার এখতিয়ার ছিলো। আমার পরে বর্তমানে ৪ নং এসবি চিফ কর্মরত, যার প্রথম দু’জন জনাব শাহ আলম (রিটায়ার্ড) এবং খোন্দকার রফিকুল ইসলাম (বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত) যাদের সততা নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নাই। এসবিতে কোন অনিয়ম আমি করে থাকলে তারা নিশ্চয়ই সাক্ষ্য দিতে পারেন। অন্য কোনো পদে আমার কেনাকাটা কিংবা নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের কোনো এখতিয়ারই ছিলো না।
## আমার নিজের সরাসরি সুযোগ না থাকলেও অন্য কোনো ইউনিটে কোনো ওসি পদায়নের জন্য সমগ্র চাকরি জীবনে কাউকে সুপারিশ করেছি-এমন একটি ঘটনাও কেউ উল্লেখ করতে পারবে না বলে চ্যালেন্জ দিচ্ছি।
## দীর্ঘদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সাব-ইন্সপেক্টর/ সার্জেন্ট নিয়োগের সাথে যারা সম্পৃক্ত ছিলো, তারা এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত। এসব নিয়োগে বিভিন্ন সময়ে যে সুপারিশ যেতো, সেসব বিষয়ে তারা নিজেরা অবগত। তাদের কাছেও কারো সন্দেহ থাকলে আমার বিষয়ে যাচাই করে দেখতে পারেন।
## পুলিশে দুর্নীতির আরেকটা বড় খাত হলো জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদমান বিষয়ে দখল কিংবা বেদখলে পক্ষ নিয়ে জমি, ফ্ল্যাট কিংবা ক্যাশ গ্রহন। আমি কিংবা আমার ইউনিটে কর্মরত এমন কেউ এসব পন্থায় অংশ নিয়েছে কিনা এমন তথ্য খুঁজে বের করা কঠিন নয়।
## পুলিশে দুর্নীতির আরো একটা ছোট খাত হলো তদন্তকালে মামলার আসামীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া। সাধারনতঃ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এই কাজটি করে। একটু গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে তাদের সিনিয়ররা এইসব তদন্তের বিষয়ে ওয়াকিফহাল থাকে। সেক্ষেত্রে ভিআইপি মামলা কিংবা মানি লন্ডারিং বা ফিনান্সিয়াল মামলার ক্ষেত্রে বড় বড় লেনদেনের ঘটনা ঘটে। সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্যবশত আমার অধীনে এরকম ভিআইপি মামলা তদন্তের রেকর্ড নাই! ছোট ছোট মামলার ক্ষুদ্র আসামী পক্ষের কাছ থেকে আমার অধীনস্থ কোনো কোনো কর্মকর্তা অর্থ আদায় করে নাই, এমন চ্যালেন্জ আমি দিতে পারবো না। তবে আমার নজরে আসলে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি।
## একথা সত্যি, সমসাময়িক অনেকেই যেসব পন্থায় বৈধ কিংবা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে, তাদের অনেকের চাইতেই আমার প্রভাব বেশি ছিলো। আমি ২০০৯ সালের শুরুতেই সিলেট জেলার এসপি পদ না নিয়ে ডিএমপিতে ডিসি হিসাবে যোগদান করেছি। পরবর্তীতে ঢাকা জেলার এসপির পদ প্রত্যাখান করে ডিবিতে থেকে গিয়েছি। ডিআইজি হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে কোনো রেঞ্জে যাই নাই, কোনো মেট্রোর কমিশনার হই নাই, যেটা আমার জন্য খুবই সহজ ছিলো। সর্বশেষ ২০২০ সালেও আমাকে চট্টগ্রাম রেন্জের ডিআইজি হওয়ার জন্য বহু রিকোয়েস্ট করেছে কর্তৃপক্ষ। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি যে সর্বোচ্চ মহল থেকে ২০২২ সালে আমাকে ঢাকার পুলিশ কমিশনার হতে বললেও বিনয়ের সাথে আমি অপারগতা জানিয়েছি।
## আমার অর্থের লালসা থাকলে এসব পদে যোগদান করে ‘তাহাদের সৃজনকৃত হাজার কোটি টাকার গল্পকে’ সত্যে রূপান্তরিত করতে পারতাম।
## কেউ কেউ আমার বাচ্চাদের বিদেশে লেখাপড়ার খরচের কথাও বলেছেন। হ্যাঁ, আমার মেয়ে ও ছেলে- দুজনই দেশে বাংলা মিডিয়ামে পড়েছে। মেয়ে দেশে গ্রাজুয়েশন করে লন্ডনের একটা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করে ন্যূনতম মজুরিতে পার্ট টাইম কাজ করছে। ছেলে গ্রাজুয়েশন করছে লন্ডনে, তার টিউশন ফি মূল ফি’র ২৫%। সেটুকুও স্টুডেন্ট লোনে চলছে। ছেলে জীবিকার জন্য লন্ডনে তিনটা টিউশনির পাশাপাশি একটা চেম্বারে পার্ট টাইম কাজ করছে। উল্লেখ্য, তারা ছোট একটা ভাড়া বাসায় বসবাস করে।
এবার ফিরে যাই শুরুর প্রসঙ্গে। অনেকদিন পরে আমি যখন ফেইসবুকে মেজর জাহিদকে নিয়ে পোষ্ট দিয়েছি, ঠিক তখনই পোষ্টে আমার প্রদত্ত তথ্য খন্ডনের চেষ্টা না করে আমাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য কথিত সম্পদের গল্প প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে একে একে সকল সৃজনশীল লেখকদের রচনার বিপরীতে সঠিক তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
### সদ্য পদোন্নতি পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত পঞ্চপান্ডবের “বীরত্ব গাঁথা”ও পরবর্তী পর্বে আসবে!!!

Md. Monirul Islam's Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল কতৃপক্ষ দায়ী নন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!