মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

সনাতন ধর্ম কি??কেবল তিলক, মালা আর খাদ্যাভ্যাসের বাছবিচার?

নিউজ ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২০ pm
সনাতন ধর্ম কি??কেবল তিলক, মালা আর খাদ্যাভ্যাসের বাছবিচার?

 অনলাইন মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬

ধর্ম কি কেবল তিলক, মালা আর খাদ্যাভ্যাসের বাছবিচার? নাকি তার গভীরে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনো পরম সত্য?
​মহর্ষি বেদব্যাস এবং শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষাকে পাথেয় করে আজ খুঁজে দেখব সনাতন দর্শনের সেই ৪টি মূল স্তম্ভকে, যা আমাদের মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠ হওয়ার পথ দেখায়। বাহ্যিক আচারের খোলস ভেঙে চলুন প্রবেশ করি প্রকৃত দর্শনের অন্দরে..."
🌿🌿 রূপের আড়ালে পরম সত্য: সনাতন দর্শনের সার্বজনীন রূপ ও ৪টি মূল স্তম্ভ
​আজকের যুগে ধর্ম বলতে আমরা প্রায়শই যা দেখি—পোশাকের ধরণ, খাদ্যাভ্যাসের বাছবিচার, তিলক-মালার ব্যবহার কিংবা নানান আনুষ্ঠানিক রীতিনীতি—এসব মূলত সমাজ ও কালভেদে গড়ে ওঠা পরিবর্তনশীল ‘লোকাচার’। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এগুলোই কি ধর্মের মূল আত্মা?ধর্মটা আসলে কি??
​কালক্রমে বাহ্যিক নিয়মনীতি আর আচার-অনুষ্ঠানের আড়ালে ধর্মের আসল দর্শনটি চাপা পড়ে গেছে। সনাতন বা সার্বজনীন দর্শনের প্রকৃত রূপ কোনো বাহ্যিক আচারে নয়; বরং তা নিহিত রয়েছে সর্বজনীন মানবিকতা, চরিত্র গঠন, সমত্ব বোধ ও মোক্ষমুক্তির দর্শনে।
​বেদ, উপনিষদ বা ১৮টি পুরাণের মতো বিশাল শাস্ত্রের মহাসমুদ্র মন্থন করে ঋষি বেদব্যাস ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে অমৃতটুকু মানুষের জন্য তুলে ধরেছেন, তা কোনো জটিল পাণ্ডিত্য নয়—বরং প্রাত্যহিক জীবনের সহজ মানবিক পাঠ।
🌲🌲 ১. পরহিতই পরম ধর্ম (Universal Love & Service)
​মহর্ষি বেদব্যাস ১৮টি পুরাণ ও মহাভারত রচনার পর সাধারণ মানুষের অনুধাবনের জন্য সম্পূর্ণ শাস্ত্রের সারসংক্ষেপ করেছিলেন মাত্র দুটি লাইনে:
🙏​"অষ্টাদশপুরাণেষু ব্যাস্য বচনদ্বয়ম্।
পরোপকারঃ পূণ্যায় পাপায় পরপীড়নম্॥"🙏
​সহজ অর্থ: ১৮টি পুরাণের মূল কথা দুটিই—অন্যের কল্যাণ বা উপকার করা হলো পরম পুণ্য (ধর্ম), আর অন্যকে কষ্ট দেওয়া বা তার ক্ষতি করাই হলো পাপ (অধর্ম)।
​ব্যাসদেব জানতেন বিশাল শাস্ত্র সবার পক্ষে পড়া বা বোঝা সম্ভব নয়। তাই তিনি সব আনুষ্ঠানিকতা দূরে সরিয়ে রেখে 'ভক্তি' ও 'নিঃস্বার্থ সেবা'-র সহজ পথ দেখিয়েছেন। এই ধারণাই যুগে যুগে বদলে বিবেকানন্দের ভাষায় রূপ নিয়েছে: "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর" বা "নর সেবাই নারায়ণ সেবা"।
🌲🌲 ২. নিষ্কাম কর্ম: দায়িত্ববোধ ও আসক্তিহীনতা (Duty without Attachment)
​শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণের সেই বিখ্যাত শিক্ষা:
​"কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন..."
​এটি কেবল কোনো ধর্মগ্রন্থের বাক্য নয়, বরং প্রাত্যহিক জীবনের পরম মনস্তাত্ত্বিক সত্য। মানুষ যখনই ফলের (লাভ, খ্যাতি বা প্রতিদান) আসায় কাজ করে, তখনই তার মনে হতাশা ও দুশ্চিন্তার জন্ম হয়।
​নিষ্কাম কর্ম আমাদের শেখায়—নিজের দায়িত্ব বা কাজটিকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে করে যাও, কিন্তু তার ফলের মোহে অন্ধ হয়ে যেও না। ধর্ম মানে কাজ ছেড়ে দেওয়া নয়, আবার অলস হয়ে বসে থাকাও নয়; বরং নিজের দায়িত্বটুকু নিঃস্বার্থভাবে পালন করাই আসল ‘কর্মযোগ’। একজন মানুষ আমিষ খেল নাকি নিরামিষ, তা দিয়ে তার ধার্মিকতা মাপা যায় না; মাপা যায় তার কর্মের নিয়ত ও নিষ্ঠা দিয়ে।
🌲🌲 ৩. জাগতিক অনিত্যতা ও মোহমুক্তি (The Temporal Nature of World)
​সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বাণী খুব ঘোরে—
"তুমি কী নিয়ে এসেছিলে, যা তুমি হারিয়েছ? যা পেয়েছ, এখান থেকেই পেয়েছ; যা রেখে যাবে, এখানেই রেখে যাবে..."
​যদিও এটি গীতার সরাসরি অনুবাদ নয়, তবে এটি গীতার মূল দর্শনের (যেমন: ২/২২, ২/১৪) একটি চমৎকার সহজ রূপ। মানুষ সারাজীবন ‘আমার গাড়ি, আমার বাড়ি, আমার ধনসম্পদ’ করে যে অহংকারে অন্ধ হয়ে থাকে, এই অনিত্যতার বোধ তা চুরমার করে দেয়।
​আমি খালি হাতে এসেছে এবং খালি হাতেই ফিরে যাব—এই সত্যটি যে মানুষ গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে, সে কোনোদিন অন্যের ক্ষতি করতে পারে না, তার ভেতর থেকে হিংসা ও জমানো ক্ষোভ মুছে যায়।
🌲🌲 ৪. সমত্ব বোধ বা ‘আত্মবন্মন্যতে জগৎ’ (Equality of Soul)
​গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন:
​"বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি।
শুনি চৈব শ্বপাকে চ পণ্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ॥" (গীতা — ৫/১৮)
​সহজ অর্থ: যিনি প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান অর্জন করেছেন বা পণ্ডিত, তিনি পরম জ্ঞানী ব্যক্তি, চণ্ডাল, গরু, হাতি কিংবা কুকুর—সকলের মধ্যেই একই পরমাত্মাকে সমানভাবে দর্শন করেন।
​এই ‘সমদর্শন’ বা ‘সমত্ব বোধ’ যখন মানুষের মনে জাগ্রত হয়, তখন জাত-পাত, উঁচু-নিচু বা মানুষের তৈরি সামাজিক ভেদাভেদ আর টিকে থাকে না। বস্তুত, আমাদের প্রথম স্তম্ভ (পরোপকার)-এর মূল ভিত্তিই হলো এই সমত্ব বোধ। কারণ, যখন আমি অন্যকেও নিজের মতোই এক আত্মা বলে মনে করব ('আত্মবন্মন্যতে জগৎ'), তখনই আমার পক্ষে নিঃস্বার্থভাবে পরোপকার করা সম্ভব হবে।
🌲🌲🌲 লোকাচার বনাম চিরন্তন দর্শন
লোকাচার (Ritual) যেটা স্থান, কাল ও সমাজভেদে পরিবর্তনশীল,কিন্তু মূল দর্শন (Philosophy) যেটা চিরন্তন, শাশ্বত ও অপরিবর্তনশীল।
আমি আজ সনাতন ধর্মের সেই চিরন্তন বিষয় গুলো নিয়েই আলোচনা করলাম, এটাই সনাতন ধর্ম।
তিলক, মালা, পূজার বিশেষ নিয়ম বা আহারের বাছবিচার হলো বাহ্যিক বিষয় যা স্থান সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল ‘লোকাচার’। কিন্তু পরোপকার, নিষ্কাম কর্ম, অনিত্যতার বোধ এবং সমত্ব বোধ হলো সনাতন ধর্মের ‘চিরন্তন দর্শন’।
​বাহ্যিক আচারের খোলস ছেড়ে যেদিন আমরা এই মূল দর্শনকে প্রাত্যহিক জীবনে স্থান দিতে পারব, সেদিনই মানুষের ভেতর সত্যিকারের ধর্মীয় ও মানবিক বোধের সূচনা হবে।
জয় রাধে 🙏🙏
 
Proshanta Kumar Roy
দারা চৌধুরী লেখাটার একটু সমালোচনা করুন প্লিজ, আমি একটু সমৃদ্ধ হই।
আমড়া কাঠের ঢেঁকি
ধর্মের মূল সত্য এটাই,,,। ধর্ম বাহিরে নয়, ধর্ম হৃদয়ে। মোহমুক্ত পরিচ্ছন্ন হৃদয়-ই ধর্মের চারণ ভূমি। ধন্যবাদ দাদা, লেখাটার সমালোচনা করার সামান্যতম জায়গা নেই। জয় রাধে।।
 
প্রত্যকটি কথায় যুক্তি ও দর্শন রয়েছে।
আমাদের শাশ্বত সনাতন ধর্মের অধিকাংশ হিন্দু জাতিরা রং তামাশায় লিপ্ত।সনাতনের ভিত্তি পবিত্র "বেদ" অপেক্ষা অন্যান্য ধোকাবাজকারিদের রূপকল্পনার ব্যবসায়িক পুস্তক নিয়ে মত্ত একশ্রেণির হিন্দু জাতিরা।এসব হতে বের হতে না পারলে সত্য শাশ্বত সনাতন ধর্ম ও সনাতনী জাতি সনাতনী সমাজ এর অস্তিত্ব পৃথিবীতে ধরে রাখা সংকট হয়ে দাঁড়াবে।
জয় শ্রী ঈশ্বর
জয় শ্রী সনাতন
জয় হোক সনাতনীদের।।
 
 

Rimi Debashis

অনেক অনেক সুন্দর মানুষ রুপী জীবের জন্য 🙏🙏🙏সত্যকে কেউ শিখার করবেনা 🌿🌿মিথ্যা কে সবাই আকরে ধরে থাকে দাদা ভাই 🙏🙏🙏
যে দিন মানুষ রুপী জীব বুঝতে পারবে সত্য কি 🙏🙏সেই দিন সে জীবের কষ্ট দূর হবে 🙏কিন্তু যতোই জীব🌿 নাম জপ🌿 তপস্যা 🌿সাধনা 🌿গুরু প্রনাম🌿 গুরু মন্ত্র🌿 হরেকৃষ্ণ জপ🌿 করুক 🙏জীবে প্রেম না করলে 🙏ঈশ্বর কে কখনো পাবেনা 🙏🙏🙏🙏আর মুক্তি ও পাবেনা শান্তি ও পাবেনা 🙏🙏
 
 
ধর্ম-সংক্রান্ত এইসব আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছে করে না, কারণ এখানে সময়ের অপচয় ছাড়া আর কোনো লাভ হয় না।
যাই হোক, ব্যাপারটা কিন্তু একই। সব ধর্মই একই রকম দাবি করে। যেমন, মুসলমানেরা দাবি করে—শুধু কয়েকটি শব্দের কলেমাটুকু বিশ্বাস করলেই একদিন জান্নাত মিলবে। তারপর একে একে তার ওপর বর্তায় অন্যান্য অনুষঙ্গও এবং শেষ পর্যন্ত জিহাদে এসে তা শেষ হয়।
হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মও তেমনই। শুরু হয় কয়েকটি শান্তির বাণী দিয়ে, তারপর মানুষ অষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে ধর্মের হাজার রকমের আচার-বিচারে। মনে-মগজে বহন করে যেতে হয় অসংখ্য বিধিনিষেধ; আস্তে আস্তে হয়ে উঠতে হয় চূড়ান্ত রকমের সাম্প্রদায়িক মানুষ। এ ছাড়া কেউ ধার্মিক হয় না।
আমি অন্য ধর্মে জন্মগ্রহণ করেছি। আমি যদি আপনার বলা কথাটুকু বিশ্বাস করেও থাকি, কেউ আমাকে হিন্দু মনে করবে না, কিংবা সে ধর্মের মানুষও আমাকে তাদের সমাজে মেনে নেবে না।
সুতরাং, কেউ মুক্ত মানুষ হতে চাইলে ধর্মের এই ঘেরাটোপ থেকে বের হয়ে আসতে হবে—এটাই শেষ কথা।
 
 

Subrata Debnath

আমি খালি হাতে এসেছি এবং খালিহাতেই ফিরে যাব,এই সত্যটি যে মানুষ গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে,সে কখনোই অন্যের ক্ষতি করতে পারে না, তার ভেতর থেকে হিংসা ও জমানো ক্ষোভ চিরতরে মুছে যায়,
  • Bishnu Pada Biswas
জয় মহাপ্রভু 🙏🙏🙏🙏🙏🙏কে বলেছে সে নাস্তিক সেটাই হল পরম ধর্ম। জীবে প্রেম করে যেই জন সেবি জন সেবিছে ঈশ্বর। নিষ্কাম কর্ম ,ভক্তি ও জ্ঞানের দ্বারাই মুখ্য লাভ করা যায়। আপনার এই বাণীগুলো লেখার জন্য ধন্যবাদ।,
  • shanta Kumar Roy's Post

  •  মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!