পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের ষাইটগাছা গ্রামে এক আতঙ্কের নাম রিপন। এলাকার মৃত তুরাব আলীর ছেলে রিপনের বিরুদ্ধে চাদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ এবং মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, সারাদিন গ্রামে অস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া চালিয়ে সন্ধ্যা হলেই সটকে পড়ে পাবনা শহরের ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেন এই অস্ত্র মামলার আসামি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ষাটগাছা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমান রিপন। তবে সেখানে কনস্ট্রাকশনের কায়িক পরিশ্রম করতে না পেরে একই গ্রামের মেহেদী ও রুবেলকে সাথে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফিরে এসে রিপন ও তার সহযোগীরা পাবনার আদালতে একটি মানবপাচার ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশকে বিভ্রান্ত করে একটি মিথ্যা চার্জশিটও দাখিল করায় এই চক্রটি। কিন্তু এখানেই ক্ষান্ত হননি রিপন। অভিযোগ রয়েছে, পাবনা শহর থেকে ভাড়াটে গুন্ডা এনে মামলার আসামি রফিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা চাদা আদায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
এদিকে কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত একই এলাকার প্রবাসী শফিকুল ইসলাম, রুহুল আমিন খোকন ও নওশের ইসলাম জানান, কম্বোডিয়ায় কাজ করলে ভালো টাকা আয় করা সম্ভব এবং তারা প্রতি মাসে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেয়ে নিয়মিত দেশে পরিবারকে টাকা পাঠাচ্ছেন। তবে রিপন, মেহেদী ও রুবেল সেখানে ঠিকমতো কাজ না করে নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুরতো এবং প্রজেক্টের সুপারভাইজারদের সাথে খারাপ আচরণ করতো। পরবর্তীতে তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার বাহানা দিয়ে দেশে ফিরে এসে যাদের মাধ্যমে বিদেশে এসেছে, তাদের নামেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা ঠুকে দেয়।
একদন্ত ইউনিয়নের যাত্রাপুর এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, রিপনের পিতা মৃত তুরাব আলী একসময় চরমপন্থী (নকশাল) রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তৎকালীন সময়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অপরাধে এলাকাবাসী তাকে বিতাড়িত করলে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন। বাবার সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ছেলে রিপনও এখন অস্ত্র ও মাদকের সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। এমনকি অস্ত্রসহ ইতোপূর্বে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেল-হাজত খাটলেও থামেনি তার অপকর্ম। ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এই বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না, তবুও সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় ষাটগাছা গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রিপন ও তার চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান পদক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ফজলুল কবির