তানিয়া আক্তার ফারজানা
প্রতি বছরের মতো এ বছরও ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্বস্তন্যপান সপ্তাহ। বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলছে। চিকিৎসকরা বলছেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো গেলে অপুষ্টি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ অনেক জটিল রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মায়ের স্তন থেকে বের হওয়া হলুদ রঙের শালদুধ (Colostrum) শিশুর জন্য প্রাকৃতিক প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টিবডি নবজাতকের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। এ সময় পানি, মধু, গ্লুকোজ বা অন্য কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না। ছয় মাস পর পুষ্টিকর সম্পূরক খাবার শুরু করলেও দুই বছর বা তারও বেশি সময় বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, মায়ের দুধ শুধু শিশুর জন্যই নয়, মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এটি প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ কমাতে সাহায্য করে, স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং মা ও শিশুর মধ্যে মানসিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কর্মক্ষেত্রে কর্মজীবী মায়েদের জন্য স্তন্যপানবান্ধব পরিবেশ, পর্যাপ্ত মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বুকের দুধ সংরক্ষণের সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে মায়েদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে র্যালি, আলোচনা সভা, স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প, হাসপাতালভিত্তিক পরামর্শ কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা গর্ভবতী নারী ও নতুন মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ের দুধে বিনিয়োগ মানেই একটি সুস্থ, মেধাবী ও অপুষ্টিমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলা। তাই শিশু জন্মের পর থেকেই বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি।
তানিয়া আক্তার ফারজানা