শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একদিকে তীব্র লোডশেডিং, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিলে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত বিলের বোঝা চেপে বসায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দিনরাত সমানতালে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালি কাজ। ব্যাটারিচালিত যানবাহন চালকরা সময়মতো গাড়ি চার্জ দিতে না পেরে চরম আয়-সংকটে ভুগছেন। শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। রোববার (২ আগস্ট) দিনে শিবচরে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৫ মেগাওয়াট, অথচ সরবরাহ মিলেছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। রাতে ৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ১৬ মেগাওয়াট। ঘাটতি তীব্র হওয়ায় বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রোটেশনাল লোডশেডিং চালাতে হচ্ছে। দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাছামাড়ার বাসিন্দা মোঃ মোস্তাকিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণত প্রতি মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ৩ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু এ মাসে বিল এসেছে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। এক দিকে ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছি না, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিলে আমাদের পকেট খালি হচ্ছে। একই ভোগান্তির কথা জানান ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক ইমরান মিয়া। তিনি বলেন, রাতে টানা ২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না, তাই ভ্যান ঠিকমতো চার্জ দিতে পারি না। আগে দিনে ৬০০ টাকার মতো আয় হতো, এখন ২০০ টাকা আয় করার আগেই চার্জ শেষ হয়ে যায়। এভাবে চললে আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। গত জুন মাস থেকে নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই গ্রাহকদের বিলে এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে শিবচরের অধিবাসীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও বিল আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ আসছে, যা মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল হক জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায় লোডশেডিং ছাড়া বিদ্যুৎ বণ্টন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধান কবে হবে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অতিদ্রুত শিবচরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভূতুড়ে ও বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের পেছনে কোনো প্রযুক্তিগত ভুল বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বিল সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মোঃ শামীম আহমেদ