ফুলবাড়ী,দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কাজীহাল ইউনিয়নের দাদুল গ্রামে অবস্থিত কাজীহাল ফাজিল মাদ্রাসার নামে দানকৃত একটি জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৯৬৭ সালে এলাকার বাসিন্দা আলহাজ ইবারত আলী শাহ প্রতিষ্ঠানটির নামে ১ একর ৭৭ শতক জমি দান করেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪ সাল থেকে জমিদাতার ছেলে ইলিয়াস আলী শাহ ওই জমির মালিকানা দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রধারী লোকজন নিয়ে জমির ধান কেটে নিয়ে যান। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষকরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।
মাদ্রাসার অফিস সহকারী মো. বেলাল হোসেন বলেন, “জমিটি দান করার পর থেকেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু ২০২৪ সালে ইলিয়াস আলী শাহ দাবি করেন, তার বাবা জমিটি দান করেননি। এ নিয়ে তিনি একাধিক মামলা করেছেন। সব মামলায় আদালতের রায় মাদ্রাসার পক্ষে এসেছে। এরপরও তিনি সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়তায় জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যাতে মাদ্রাসা নির্বিঘ্নে জমিটি ভোগদখল করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারে।”
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি মাদ্রাসার ভোগদখলে থাকতে দেখেছেন। তাদের ভাষ্য, হঠাৎ কী কারণে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে তা তাদের জানা নেই। তবে তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইলিয়াস আলী শাহের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
মোঃ রাব্বি হাসান