শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুরের শিবচরে ঐতিহ্যবাহী (শিবচর প্রেস ক্লাব) নামটি ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই নাম ব্যবহার করে পৃথক তিনটি পক্ষ নিজেদের প্রকৃত (শিবচর প্রেস ক্লাব) হিসেবে দাবি করায় বৈধতার প্রশ্নটি এখন তুঙ্গে। এর ফলে পেশাদার সাংবাদিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে এসএ টিভির প্রতিনিধি জাকির হোসেন, দৈনিক ভোরের ডাকের প্রতিনিধি আবুল খায়ের খান এবং দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি বিএম হায়দার আলীর নেতৃত্বে পৃথক তিনটি গ্রুপ (শিবচর প্রেস ক্লাব) নাম ব্যবহার করে নিজ নিজ সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার দাবি করছে।
জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন পক্ষ: অতি সম্প্রতি এই পক্ষটি (শিবচর প্রেস ক্লাব)-এর ব্যানারে একটি নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। এ বিষয়ে জাকির হোসেন জানান, শিবচরের সকল সাংবাদিককে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু মতপার্থক্যের কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে যারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন, তাদের নিয়েই আমরা নির্বাচন সম্পন্ন করেছি।
আবুল খায়ের খানের নেতৃত্বাধীন পক্ষ: জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন ও নাম ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে এই পক্ষটি। তাদের দাবি, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০৯ সালে সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত (শিবচর প্রেস ক্লাব) একটিই। দৈনিক ভোরের ডাকের প্রতিনিধি আবুল খায়ের খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে (শিবচর প্রেস ক্লাব) নামে আমাদের সরকারি নিবন্ধন রয়েছে। তাই একই নামে অন্য কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। আইন অমান্য করে কেউ এই নাম ব্যবহার করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএম হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন পক্ষ: অপর পক্ষে দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি বিএম হায়দার আলী বর্তমান বিভাজন দূর করে নতুন উদ্যোগের কথা জানান। বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে দলীয় প্রভাব বিস্তারকারীদের বাইরে রেখে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে খুব শিগগিরই মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য (শিবচর প্রেস ক্লাব) গঠন করা হবে। তখন আর কারো ভুয়া সংগঠন পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।
রাজনৈতিক ও স্থানীয় সুধীজনের প্রতিক্রিয়া: সাংবাদিকদের এই বিভক্তি ও মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ। শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল রানা সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা চাই শিবচরের সকল সাংবাদিক বিভেদ ভুলে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আসুন। তারা ঐক্যবদ্ধ থেকে বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
ভাবমূর্তি সংকটে স্থানীয় সাংবাদিকতা
একই নামে তিনটি পৃথক পক্ষের সক্রিয় উপস্থিতি এবং বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দপ্তর কোন প্রেস ক্লাবকে মূল সংগঠন হিসেবে গণ্য করবে-তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত যদি একটি গ্রহণযোগ্য আইনি ও সাংগঠনিক সমাধানে না পৌঁছানো যায়, তবে এই বিরোধ ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে। এতে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
মোঃ শামীম আহমেদ