তানিয়া আক্তার ফারজানা
রাজধানীর যানজট কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে পরিকল্পিত ২২টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মধ্যে এখনো ৯টি মোড়ে সিগন্যাল বসানোর কাজ শুরু করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উপযুক্ত ঠিকাদার না পাওয়ায় তিন দফা দরপত্র আহ্বানের পরও এসব কাজ আটকে আছে।
জানা গেছে, হাইকোর্ট মোড় থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত করিডরের ২২টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩টি মোড়ে সিগন্যাল চালু হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা আটটি মোড়েই কাজ শেষ হয়েছে। আর ঢাকা উত্তর সিটি
করপোরেশনের ১৪টি মোড়ের মধ্যে চালু হয়েছে মাত্র পাঁচটি।
এখনো যেসব মোড়ে সিগন্যাল স্থাপন বাকি রয়েছে, সেগুলোর সবই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে না পারায় দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চালু হওয়া বেশ কয়েকটি মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল কার্যকর থাকলেও ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতিতেই যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অধিকাংশ চালক লাল বাতিতে থামলেও কিছু রিকশা ও মোটরসাইকেল চালক এখনো সিগন্যাল অমান্য করছেন। তবে আগের তুলনায় সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।
এদিকে চলমান প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই রাজধানীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইটিএস ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকবে ২৮টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ২২টি মোড়। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিবর্তে আধুনিক ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবস্থা রাজধানীর যান চলাচল আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত জনবল এবং চালক ও পথচারীদের সচেতনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
তানিয়া আক্তার ফারজানা