মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
হোম অপরাধ অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক খেলাধুলা গণমাধ্যম জাতীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিনোদন রাজনীতি শিক্ষা সারাবাংলা

ভারতীয় ফুটবলে বড় ধাক্কা: জামশেদপুর এফসিকে আইএসএলে রাখার আহ্বান সুনীল ছেত্রীর

তানিয়া আক্তার ফারজানা তানিয়া আক্তার ফারজানা
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৭ am
ভারতীয় ফুটবলে বড় ধাক্কা: জামশেদপুর এফসিকে আইএসএলে রাখার আহ্বান সুনীল ছেত্রীর

তানিয়া আক্তার ফারজানা

ভারতের সাবেক ফুটবল অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী টাটা গ্রুপের প্রতি জামশেদপুর এফসির সিনিয়র দলের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে টাটা গ্রুপের সরে যাওয়া এমন এক বিপর্যয়, যার কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি জামশেদপুর এফসি জানিয়েছে, তারা ২০২৬-২৭ মৌসুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ISL) অংশ নেবে না। এই ঘোষণার ফলে ক্লাবের ফুটবলার, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পাশাপাশি, গত নয় মৌসুম ধরে আইএসএলে থাকা টাটা স্টিলের যাত্রাও শেষ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক আবেগঘন বার্তায় সুনীল ছেত্রী লিখেছেন, "ভারতীয় ফুটবলে টিকে থাকা কখনোই সহজ ছিল না। যখন চারপাশে সবকিছু ভেঙে পড়ার মতো মনে হয়, তখন পরিবারের বড়দেরই পাশে থাকার আশা করা হয়।"

তিনি বলেন, টাটা ফুটবল একাডেমি (TFA) এবং পরে জামশেদপুর এফসি-এর মাধ্যমে টাটা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তাই তাদের সরে যাওয়া দেশের ফুটবলের জন্য বড় ধাক্কা হবে।ছেত্রী আরও বলেন, "জামশেদপুর এফসির প্রথম দল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এ খবর সত্যিই হৃদয়বিদারক। খেলোয়াড় ও কোচরা হয়তো অন্য ক্লাব খুঁজে পাবেন, লিগও কোনোভাবে চলবে। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে যদি টাটা গ্রুপ না থাকে, সেটি হবে এমন এক ক্ষতি যার কোনো বিকল্প নেই।"

তিনি স্বীকার করেন, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া লাগতেই পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি টাটা গ্রুপের নীতিনির্ধারকদের প্রতি ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে ফুটবলের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। সুনীল ছেত্রী বলেন, "আমি শুধু অনুরোধ করতে পারি, টাটা গ্রুপ যেন এই সিদ্ধান্তটি আবার বিবেচনা করে। ব্যবসায়িকভাবে এটি হয়তো কঠিন সিদ্ধান্ত হবে, কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের জন্য এখন এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।"

জামশেদপুর এফসির আইএসএল থেকে সরে দাঁড়ানোর তাৎক্ষণিক কারণ ছিল, নতুন ক্লাব ভিত্তিক মডেলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত ৫৫ লাখ রুপির প্রথম কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারা। সময়সীমা বাড়ানো হলেও ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত অর্থ জমা দেয়নি। তবে ক্লাবের প্রধান নির্বাহী মুকুল চৌধুরী জানিয়েছেন, শুধু এই ফি নয়, মূল সমস্যা হলো পর্যাপ্ত আয় না হওয়া। ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরেই শেয়ারহোল্ডারদের অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং বর্তমান আইএসএল কাঠামোতে আর্থিকভাবে টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।

এদিকে, জামশেদপুর এফসি জানিয়েছে, খেলোয়াড়, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে করা সব আর্থিক চুক্তি যথাযথভাবে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি, টাটা ফুটবল একাডেমি এবং তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল উন্নয়নে তাদের বিনিয়োগও অব্যাহত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জামশেদপুর এফসির এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ক্লাবের বিদায় নয়; এটি ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ ও আর্থিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, টাটা গ্রুপ যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তাহলে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য বড় স্বস্তির খবর হতে পারে।

Viewer Image
×
লিংক কপি করা হয়েছে!