তানিয়া আক্তার ফারজানা
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে চুলা জ্বালানোই সম্ভব হয় না। ফলে রান্না করতে না পেরে অনেক পরিবারকে এলপিজি (সিলিন্ডার) গ্যাস, বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এতে মাসিক সংসার খরচ কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।
মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, আজিমপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করলেও দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার গভীর রাত বা ভোরে গ্যাস এলে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। আগে পাইপলাইনের গ্যাসে স্বল্প খরচে রান্না করা গেলেও এখন অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। একেকটি সিলিন্ডার কিনতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হওয়ায় সংসারের বাজেটে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, গ্যাস বিল দেওয়ার পরও আবার সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে এ যেন দ্বিগুণ ব্যয়ের বোঝা।
ছোট হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলোর অবস্থাও একই রকম। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে সময়মতো রান্না করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসার গতি কমে গেছে, উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত খরচে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০–৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। এর ফলে তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত এলাকায় আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি খাতে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু বাসাবাড়িতে সীমাবদ্ধ নয়; শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলএনজি অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন তারা। এদিকে রাজধানীর বাসিন্দাদের দাবি, তারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তানিয়া আক্তার ফারজানা