তানিয়া আক্তার ফারজানা
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। একাধিক গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
তবে জামিন পেলেও বেনজীর আহমেদের ওপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি আপাতত দুবাই ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে। ফলে জামিনে মুক্ত হলেও তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দেশ ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এদিকে বাংলাদেশ সরকার বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে উদ্যোগ আরও জোরদার করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুবাইয়ে তার জামিন বাতিলের জন্য একটি আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান (ল' ফার্ম) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতেই দুবাইয়ের আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে শর্তসাপেক্ষে জামিনের আদেশ দেওয়া হয়। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে দেশে তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে দুবাইয়ে আটক করা হয়।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায়ও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়া মানেই তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি নয়। বরং এখন মূল গুরুত্ব থাকবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের আদালতে বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপের ওপর।
তানিয়া আক্তার ফারজানা